বাংলাদেশ সরকার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জারিকৃত প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তিনটি নতুন জাতীয় দিবস ঘোষণা করেছে। এই দিবসগুলো ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতা গণঅভ্যুত্থান এবং দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনগুলোর স্মরণে নির্ধারিত হয়েছে। সরকার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দফতরগুলোকে এসব দিবস যথাযথ মর্যাদায় পালনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছে।
প্রথম দিবস হলো ১৬ জুলাই — ‘শহীদ আবু সাঈদ দিবস’। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতা আন্দোলনের সময় রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন। দেশের এই ত্যাগী যুবকের স্মরণে সরকার ১৬ জুলাইকে ‘খ’ শ্রেণির জাতীয় দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছে, যাতে তার আত্মত্যাগ ও সাহসিকতা সারাবিশ্বে উদাহরণ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
দ্বিতীয় দিবসটি হলো ৫ আগস্ট — ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’। ২০২৪ সালের এই দিনে দেশে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের জোরালো ধাক্কায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করেন, যা নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা করে। সরকার এই দিনটিকে ‘ক’ শ্রেণির জাতীয় দিবস এবং সরকারি ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণা করেছে, যার মাধ্যমে প্রতিবছর দেশের জনগণ ঐতিহাসিক এই ঘটনাটি স্মরণ করবে।
তৃতীয় এবং সর্বশেষ দিবস হলো ৮ আগস্ট — ‘নতুন বাংলাদেশ দিবস’। এই দিনে নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছিল। এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত, যা বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক দিশা ও সামাজিক পরিবর্তনের সূচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই দিনটিও ‘খ’ শ্রেণির জাতীয় দিবস হিসেবে পালিত হবে।
সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোকে এসব দিবস যথাযথ মর্যাদায় পালন করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি দিনগুলোতে আলোচনা সভা, র্যালি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জাতির সামনে ঐতিহাসিক ঘটনাগুলো তুলে ধরা হবে।
এই নতুন জাতীয় দিবস ঘোষণা বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এর মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রদর্শিত হবে।