রবিবার (১৭ মে) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের এ ব্লকের ৪১৭ নম্বর কক্ষে এ আয়োজন সম্পন্ন হয়। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সহকারী অধ্যাপক ও স্বাস্থ্য অনুষদের ডিন ড. মো. ফুয়াদ হোসেন বলেন, "সাধারণ ফ্লু, কাশি বা সর্দির মতো সমস্যায় মানুষ অপ্রয়োজনে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার দিকে ঝুঁকে পড়ে। অথচ অনেক ক্ষেত্রে ওষুধ না খেলেও একই সময়ে রোগ সেরে যায়। এই অতিরিক্ত ও ভুল অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের কারণে ভবিষ্যতে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।"
তিনি আরও বলেন, "সচেতনতার অভাব শুধু সাধারণ মানুষের মধ্যেই নয়, চিকিৎসকদের মধ্যেও রয়েছে। তাই সচেতনতাকে দৈনন্দিন জীবনের সংস্কৃতিতে পরিণত করতে হবে। সিঙ্গাপুরের উদাহরণ দিয়ে বোঝা যায়, একটি সমাজে সচেতনতা ও অভ্যাসই বড় পরিবর্তন আনে। ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ থেকে সচেতনতার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে পারলে ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব, অন্যথায় পরিণতি হবে ভয়াবহ।"
বিশেষ অতিথি ডা. মো. তারিকুল ইসলাম ইসলাম বলেন, "অ্যান্টিবায়োটিক সচেতনতা এখন বিশ্বজুড়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। এ বিষয়ে শুধু চিকিৎসক নয়, সাধারণ মানুষের মধ্যেও সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।" তিনি বলেন, দেশের মানুষ এখনও স্বাস্থ্য ও ওষুধ ব্যবহারের বিষয়ে যথেষ্ট সচেতন নয়।
তিনি আরও বলেন, "বিভিন্ন এলাকায় জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে ধারাবাহিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালাতে হবে। পাশাপাশি সাংবাদিকদের ভূমিকা, স্বাস্থ্য ও অর্থনীতি এবং অ্যান্টিফাঙ্গাল রেজিস্ট্যান্স নিয়ে সেমিনার আয়োজনের আহ্বান জানান তিনি। গণ বিশ্ববিদ্যালয় এক বছরের কর্মসূচি নিয়ে কাজ করলে তা দেশের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।"
অনুষ্ঠানের মূল বক্তা ডা. মো. হাবিবুর রহমান বলেন, "আমি এখানে এসে সত্যিই গর্বিত, কারণ এটি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর প্রতিষ্ঠিত একটি প্রতিষ্ঠান। এমন একটি ক্যাম্পাসে এই ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজনের অংশ হতে পারা নিঃসন্দেহে সম্মানের। এটি শুধু একটি প্রোগ্রাম নয়, বরং একটি সচেতনতামূলক উদ্যোগ, যেখানে আমাদের মূল লক্ষ্য কেবল বিজ্ঞানভিত্তিক আলোচনা করা নয়; বরং মানুষের মাঝে সচেতনতা তৈরি করা, তাদের উদ্বুদ্ধ করা এবং সমাজের জন্য ইতিবাচক কাজ করতে অনুপ্রাণিত করা।"
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবুল হোসেন বলেন, "আমাদের সমাজ ব্যাবস্থা এমন পর্যায়ে চলে গেছে যে আমরা সবাই এখন ডাক্তারের উপর নির্ভরশীল। আমরা প্রুচুর ভেজালযুক্ত খাবার খাই এবং অসুস্থ হয়ে পড়ি ডাক্তারের কাছে যাই। তারা বিনা পরিক্ষায় আমাদের এন্টিবায়োটিক প্রেসক্রাইব করে দেয়। বিদেশে ডাক্তাররা সাধারণ এন্টিবায়োটিক দেয় না দিলেও অনেক পরিক্ষার মাধ্যমে দেন। এমন অবস্থা চলতে থাকলে পরে আমাদের দেহে এন্টিবায়োটিক কাজই করবে না। আমাদের এই ব্যাপারে খুবই সতেচন হতে হবে।"
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে কুইজ প্রতিযোগিতা ও পোস্টার উপস্থাপনার আয়োজন করা হয়। পরে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার ও সনদ বিতরণ করা হয়।
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিপিএটিসি, বেবজা কলেজ, সাভার সরকারি কলেজ এবং মির্জা গোলাম হাফিজ কলেজ-এর শিক্ষার্থীরাও উপস্থিত ছিলেন।