আজ মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) রাতে উপজেলার পাথালিয়া ইউনিয়নের নলাম এলাকার একটি ভাড়া মেস বাসায় এই ঘটনাটি ঘটে। আহত শিক্ষার্থীকে রাতেই আশুলিয়ার গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
অভিযুক্তরা হলেন অন্তু দেওয়ান (২২), মেহেদী হাসান (২১), আশরাফুল (২২) ও আসিফ লাবিব (২৩), সবাই গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী। ভুক্তভোগী শের আলী রংপুরের পীরগঞ্জের মাহমুদপুর এলাকার বাসিন্দা।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, বিকেলে প্রথমে আশরাফুলের বাসায় ডাকা হয় তিনি ও তার কয়েকজন বন্ধু। সেখানে তাকে হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়, যার কারণে তিনি বাসায় ফিরে যান। পরে রাত ৯টার দিকে তাকে খিচুড়ি খাওয়ার আড়ালে আবার ডাকা হয় এবং খাওয়ার পর একা আটকিয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। রাতভর চলা নির্যাতনের মধ্যে রয়েছে চড়, থাপ্পড়, লাথি ও উলঙ্গ করার হুমকি। ভুক্তভোগী জানিয়েছেন, ভোরের দিকে সকলের পায়ে ধরে ক্ষমা চাওয়ার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে বন্ধুদের সাহায্যে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র হাসপাতালে তাকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দেখা যায়। মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক ডা. নকিব জাহাঙ্গীর জানান, শিক্ষার্থীর শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং পুরোপুরি সেরে ওঠার জন্য কয়েক দিনের চিকিৎসা প্রয়োজন।
ভুক্তভোগী বলেন, "সিনিয়ররা প্রথমে মেসে ডেকে আমাকে তর্কে জড়িয়ে হুমকি দেয়। রাত ৯টার দিকে আবার ডেকে খিচুড়ি খেতে দেয়, খাওয়ার পর আমাকে একা আটকায়। আমাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়, পরে সবার পায়ে ধরে ক্ষমা চেয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। আমি এই ঘটনার যথাযথ বিচার চাই।"
আহত শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে নেওয়া তার বন্ধু মাহিম খান বলেন, "সিনিয়রদের রুমে ডাকা হয়েছিল, খিচুড়ি খাওয়ার পর শিক্ষার্থীকে একা রেখে মারধর করা হয়। পরে তাকে আমরা হাসপাতালে নিয়ে যাই।"
অভিযুক্ত অন্তু দেওয়ান দাবি করেন, "আমরা শুধুই শাসন করেছি, কোনো শারীরিক নির্যাতন হয়নি। খিচুড়ির দাওয়াতে গিয়েছিলাম, সেখানে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেছি।"
মেহেদী হাসান ও আসিফ লাবিবও বলেন, তারা ওই ঘটনার সময় রুমের বাইরে ছিলেন এবং পরবর্তী ঘটনার বিস্তারিত জানেন না।
গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সভাপতি ও আইন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক রফিকুল আলম জানিয়েছেন, তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সহকারী অধ্যাপক ফারাহ্ ইকবালকে সভাপতি ও প্রভাষক কাউছারকে সদস্য সচিব করে ৭ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী ৩ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হান্নান বলেন, "যদি শিক্ষার্থী লিখিত অভিযোগ দেন, জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
এদিকে, ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার সকালে ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়েছেন ভুক্তভোগীর সহপাঠীরা।