শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে নীলডুমুর খেয়াঘাট এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয়দের ভাষ্য, গাবুরা ইউনিয়নের চাঁদনিমুখা গ্রামের বাসিন্দা মো. হারুনের স্ত্রী হীরা (২০) হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত নৌকায় করে নদী পার হয়ে খেয়াঘাটে নিয়ে আসেন, যেন দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া যায়।
কিন্তু রাত গভীর হওয়ায় সেখানে কোনো যানবাহন পাওয়া যাচ্ছিল না। প্রসব যন্ত্রণায় অসহায় হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন হীরা। পরিবারের সদস্যরাও চরম উৎকণ্ঠায় পড়ে যান। উপস্থিত স্থানীয় লোকজন চেষ্টা করেও দ্রুত কোনো পরিবহনের ব্যবস্থা করতে ব্যর্থ হন।
এমন সময় দলীয় একটি কর্মসূচি শেষে বাড়ি ফিরছিলেন ড. মনিরুজ্জামান মনির। খেয়াঘাটে মানুষের ভিড় ও অসুস্থ নারীর কান্না শুনে তিনি গাড়ি থামান এবং পুরো বিষয়টি জানতে চান। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝে তিনি কোনো দেরি না করে নিজের ব্যক্তিগত গাড়িতে ওই প্রসূতিকে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠিয়ে দেন। পরে নিজে মোটরসাইকেলে করে বাড়ির পথে রওনা হন।
হাসপাতালে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে নিরাপদে সন্তান জন্ম দেন হীরা। হাসপাতালের চিকিৎসক সাকির হোসেন জানান, সময়মতো হাসপাতালে আনার কারণে জটিলতা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে মা ও নবজাতক দুজনই সুস্থ আছেন।
প্রসূতির পরিবারের সদস্যরা বলেন, দ্রুত সহায়তা না পেলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। সংকটময় মুহূর্তে ড. মনিরুজ্জামান মনিরের সহায়তায় মা ও শিশুর জীবন রক্ষা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গাবুরা একটি দ্বীপবেষ্টিত উপকূলীয় ইউনিয়ন। সেখান থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে হলে প্রথমে নৌকায় নদী পার হতে হয়, এরপর প্রায় ২৫ কিলোমিটার সড়কপথ অতিক্রম করতে হয়। বিশেষ করে রাতের বেলায় যানবাহনের সংকটে রোগীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
তাদের দাবি, অতীতেও হাসপাতালে নেওয়ার আগেই নৌকায় সন্তান জন্ম দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। তাই দীর্ঘদিন ধরে গাবুরায় একটি হাসপাতাল স্থাপনের দাবি জানিয়ে আসছেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে ড. মনিরুজ্জামান মনির বলেন, মানুষের বিপদের সময় পাশে দাঁড়ানো মানবিক দায়িত্ব। একজন মা ও নবজাতকের নিরাপত্তার জন্য তিনি যা সম্ভব হয়েছে, সেটুকুই করেছেন।