নিখোঁজদের মধ্যে ১০৫ জন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন। এ ছাড়া ২৯১ জন বিদেশি ও ৯৩ জন নেপালি নাগরিকেরও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। বুধবার (২৬ আগস্ট) স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।
কাঠমান্ডুর উত্তরাঞ্চলের রাসুয়া জেলার ওপর দিয়ে বুধবার সকালে হঠাৎ পানির স্রোত নেমে আসে। চীনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল তিব্বত থেকে ভোতেকোশি নদী দিয়ে পানি এসে পড়ায় নদীর আশপাশের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। পানির সঙ্গে কাদা ও পলি এসে অনেক এলাকা ঢেকে যায়।
ঘটনার পর নেপাল পর্যটন বোর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানায়, দুর্গত এলাকায় থাকা স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করতে অনুসন্ধান চলছে।
পর্যটন বোর্ডের হিসাবে, নিখোঁজ ২৯১ বিদেশির মধ্যে ১০৫ জন ভারতীয় ও ৩৭ জন প্রবাসী ভারতীয় রয়েছেন। তালিকায় ১৭ জন মালয়েশিয়ান, ১২ জন ব্রিটিশ, চারজন দক্ষিণ আফ্রিকান, তিনজন মার্কিন নাগরিক, একজন অস্ট্রেলিয়ান ও একজন ডাচ নাগরিকও রয়েছেন। আরও ১১১ জনের জাতীয়তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাঁরা সবাই পর্যটক হিসেবে নেপালে ছিলেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, কৈলাশ মানস সরোবরে যাওয়ার পথে প্রায় ৪০০ পর্যটক নিখোঁজ হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় ১৪০ জন ভারতীয়। দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকও নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
নেপাল সেনাবাহিনী জানিয়েছে, দুর্গত এলাকায় ১৪টি হেলিকপ্টার ও কয়েকশ উদ্ধারকর্মী পাঠানো হয়েছে। আটকে পড়াদের উদ্ধারের পাশাপাশি নিখোঁজদের সন্ধানেও অভিযান চলছে।
এই বন্যায় দেশটির বিদ্যুৎ অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, রাসুয়াগড়ি, চিলিমে, ত্রিশুলি ৩এ, ত্রিশুলি ৩বি সাবস্টেশন এবং ত্রিশুলি ও দেবীঘাট জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ছয়টি প্রধান প্রকল্পে ক্ষতির কারণে প্রায় ৪৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সঞ্চালন ব্যাহত হচ্ছে।
পরিস্থিতি নিয়ে জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের জরুরি বৈঠক ডেকেছেন প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ। উদ্ধারকাজ বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। সেনাবাহিনীর দুটি হেলিকপ্টার ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মীদেরও অভিযানে যুক্ত করা হয়েছে।
কেন এমন আকস্মিক ঢল হলো, তা নিয়ে প্রাথমিক একটি ব্যাখ্যাও দিয়েছেন কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও জলবায়ু গবেষক রিজান ভক্ত। তিনি বলেন, লেন্দে নদীতে বরফ ধসের কারণে পানির প্রবাহ আটকে গিয়ে সেখানে পানি জমতে থাকে।
রিজান ভক্ত আরও বলেন, বুধবার সকাল ৯টার দিকে আকস্মিক বন্যার পানি নেপালের দিকে নেমে আসার সময় তিব্বতে ৪ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্প হয়। তাঁর ধারণা, ভূমিকম্পের কারণে বরফ সরে গিয়ে জমে থাকা পানি ও লেন্দে নদীর প্রবাহ একসঙ্গে ভোতেকোশি নদীতে নেমে আসে। সেখান থেকেই ভয়াবহ ঢলের সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে।