জিলহজের নবম দিনের শুরু থেকেই হাজিরা আরাফাতের নির্ধারিত সীমানায় জড়ো হতে থাকেন। সূর্যাস্ত পর্যন্ত তারা সেখানে অবস্থান করে জিকির, নফল ইবাদত ও আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনায় মগ্ন থাকবেন। হজের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অংশ হিসেবে পরিচিত এই অবস্থানকে ইসলামে ‘উকুফে আরাফা’ বলা হয়।
ইসলামি শিক্ষায় আরাফায় অবস্থানকে হজের মূল ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, “হজ হলো আরাফা”। এ কারণে এই দিনের গুরুত্ব মুসলিম বিশ্বে অত্যন্ত গভীর ও তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।
ইতিহাস ও ধর্মীয় বর্ণনা অনুযায়ী, ৬৩২ খ্রিস্টাব্দে বিদায় হজের সময় মহানবী (সা.) আরাফাতের জাবাল আর-রাহমাহ বা রহমতের পাহাড়ে শেষ খুতবা প্রদান করেছিলেন। সেই ভাষণে মানবাধিকার, ন্যায়বিচার, সাম্য ও মানুষের জীবন-সম্পদের মর্যাদার বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়।
দুপুরে হাজিদের উদ্দেশে আরাফার খুতবা দেওয়া হবে। পরে সুন্নাহ অনুসরণ করে জোহর ও আসরের নামাজ একসঙ্গে সংক্ষিপ্ত আকারে আদায় করবেন মুসল্লিরা। এরপর সূর্যাস্ত পর্যন্ত চলবে দোয়া ও ইবাদত।
মক্কা থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত আরাফাতের বিস্তীর্ণ প্রান্তরে অবস্থিত জাবাল আর-রাহমাহ এলাকায় হাজিদের ভিড় সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী, এই স্থান হযরত আদম (আ.) ও হাওয়া (আ.)-এর পুনর্মিলনের স্মৃতিবিজড়িত।
এর আগে মিনায় ‘ইয়াওমুত তারবিয়াহ’ পালন করেন হাজিরা। সেখানে তারা হজের পরবর্তী ধাপগুলোর জন্য মানসিক ও শারীরিক প্রস্তুতি নেন।
অতিরিক্ত গরমের মধ্যে হাজিদের নিরাপত্তা ও সেবা নিশ্চিত করতে সৌদি কর্তৃপক্ষ ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। পরিবহন ব্যবস্থা, চিকিৎসাসেবা, জরুরি সহায়তা ও জনসমাগম নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন ইউনিট মাঠে কাজ করছে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য বিভাগ হাজিদের পর্যাপ্ত পানি পান এবং দীর্ঘ সময় রোদে অবস্থান না করার পরামর্শ দিয়েছে।