একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাবেক এই কূটনীতিক বলেন, তার মন্ত্রণালয়ের কাজে অন্য কয়েকজন উপদেষ্টার প্রভাব ছিল স্পষ্ট। তাদের অনেকের সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞতা না থাকলেও উচ্চপর্যায়ে তাদের মতামতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হতো। এ পরিস্থিতিতে তিনি তিনবার দায়িত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবে সরকারের ভাবমূর্তির কথা বিবেচনা করে তাকে থেকে যাওয়ার অনুরোধ করা হয়।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ‘ডিপ স্টেট’-এর সম্পৃক্ততা প্রসঙ্গে তৌহিদ হোসেন বলেন, বিশ্ব রাজনীতির বড় ঘটনাগুলোতে প্রভাবশালী গোষ্ঠীর উপস্থিতি অস্বাভাবিক নয়। তার ভাষ্য, তারা সরাসরি স্রোতের বিপরীতে না গিয়ে পরিস্থিতিকে নিজেদের অনুকূলে পরিচালনার চেষ্টা করে।
তিনি আরও বলেন, দায়িত্বে থাকাকালে কয়েকজন উপদেষ্টাকে নিয়ে গঠিত একটি অনানুষ্ঠানিক ‘কিচেন কেবিনেট’ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব রাখত। নিয়মিত বৈঠকের মাধ্যমে নানা বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত নেওয়া হতো বলেও তিনি জানতে পেরেছিলেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া বাণিজ্য চুক্তি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সাবেক এই উপদেষ্টা। তার দাবি, পুরো প্রক্রিয়ায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কোনো ভূমিকা ছিল না। বিষয়টি মূলত বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। তার মতে, জরুরি প্রয়োজন না থাকলে এমন সিদ্ধান্ত নির্বাচিত সরকারের জন্য রেখে দেওয়াই যুক্তিযুক্ত হতো।
শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরাতে দিল্লিতে চিঠি পাঠানোর প্রসঙ্গেও কথা বলেন তৌহিদ হোসেন। তিনি জানান, এ উদ্যোগ থেকে কার্যকর ফল পাওয়ার আশা তার ছিল না। একই সঙ্গে তিনি মনে করেন, আওয়ামী লীগ পুরোপুরি রাজনীতি থেকে হারিয়ে যাবে না; ভবিষ্যতে দলটি আবারও নির্বাচনী রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে ফিরে আসতে পারে।