কমলাপুর রেলস্টেশনে সকালে কয়েকটি ট্রেন নির্ধারিত সময়ের তুলনায় দেরিতে ছেড়ে যায়। নীলসাগর এক্সপ্রেস ভোর সাড়ে ছয়টায় ছাড়ার কথা থাকলেও সেটি সকাল আটটার দিকে যাত্রা শুরু করে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দিনজুড়ে রাজধানী থেকে প্রায় ৬৮টি ট্রেন দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে ছেড়ে যাবে।
স্টেশন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত কয়েকদিন শিডিউল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হলেও যাত্রীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় কিছুটা বিলম্ব তৈরি হয়েছে। সকাল থেকেই ট্রেনে অতিরিক্ত যাত্রী দেখা যায়। অনেকেই ছাদে উঠে যাত্রা করেছেন। যাত্রীরা জানান, সড়কপথে যানজট এড়াতে তারা ট্রেন বেছে নিয়েছেন, তবে ট্রেনের বিলম্বে ভোগান্তিও পোহাতে হচ্ছে।
নদীপথেও ঈদযাত্রার চাপ স্পষ্ট ছিল। সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে সকাল থেকে যাত্রীদের ভিড় বাড়তে থাকে। বিভিন্ন জেলার উদ্দেশ্যে একের পর এক লঞ্চ ছেড়ে গেলেও যাত্রীদের অভিযোগ, অনেক সময় লঞ্চ পূর্ণ হওয়ার পরও ছাড়তে দেরি করা হচ্ছে। এ নিয়ে কয়েক জায়গায় যাত্রী ও লঞ্চ কর্তৃপক্ষের মধ্যে উত্তেজনার ঘটনাও ঘটে।
অন্যদিকে মহাখালী, সায়েদাবাদসহ রাজধানীর বিভিন্ন বাস টার্মিনালেও ছিল বাড়ি ফেরা মানুষের ভিড়। অনেক যাত্রীকে দীর্ঘ সময় কাউন্টারে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। বাস সংকটের কারণে কিছু কাউন্টারে সাময়িকভাবে টিকিট বিক্রি বন্ধ রাখা হয় বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ভোররাতের বৃষ্টিতে ঈদযাত্রা আরও দুর্ভোগপূর্ণ হয়ে ওঠে। কয়েকটি বাস নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে ছেড়ে যায়। পাশাপাশি অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগও তুলেছেন যাত্রীরা। তবুও নানা ভোগান্তির মাঝেও পরিবারের কাছে ফেরার আনন্দে উচ্ছ্বসিত ঘরমুখো মানুষ।