পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং চীনের ঝেজিয়াং প্রদেশের গভর্নর মি. লিউ হাংঝুতে আয়োজিত পাকিস্তান-চীন বিজনেস কনফারেন্সে উপস্থিত থেকে এই চুক্তি স্বাক্ষর কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন। সম্মেলনে দুই দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বিনিয়োগ ও সহযোগিতা সংক্রান্ত সমঝোতা সম্পন্ন হয়।
পাকিস্তান সরকার জানিয়েছে, চার দিনের সরকারি সফরে গত শনিবার চীনে পৌঁছান শেহবাজ শরিফ। সফরের মূল লক্ষ্য ছিল অর্থনীতি, প্রযুক্তি ও শিল্প খাতে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা। একই সময়ে ইসলামাবাদ ও বেইজিং তাদের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭৫ বছর পূর্তিও উদযাপন করছে।
নতুন চুক্তিগুলোর আওতায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ইলেকট্রিক যানবাহন, স্মার্ট মোবিলিটি এবং উৎপাদন শিল্পে চীনা বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পাকিস্তান সরকার আশা করছে, এসব বিনিয়োগ দেশের শিল্পখাত ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হবে।
অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় বর্তমানে পাকিস্তান ৭ বিলিয়ন ডলারের আইএমএফ সহায়তা কর্মসূচির অধীনে কাজ করছে। এই প্রেক্ষাপটে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে চীনের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে ইসলামাবাদ। একই সঙ্গে সিপিইসি প্রকল্পকে অবকাঠামো ও বিদ্যুৎ খাতের বাইরে নিয়ে শিল্প, কৃষি, প্রযুক্তি ও রপ্তানিমুখী খাতে সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের মতে, দুই দেশের সহযোগিতার নতুন ধাপে শিল্প উন্নয়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, কৃষি আধুনিকায়ন এবং উৎপাদনমুখী বিনিয়োগকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। উল্লেখ্য, চীন ইতোমধ্যে সিপিইসি’র আওতায় পাকিস্তানে ৬৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যা বেইজিংয়ের বৈশ্বিক ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।