সৌদি আরবে বসবাস, শ্রম ও সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের দায়ে এক সপ্তাহব্যাপী যৌথ অভিযানে প্রায় ২২ হাজার ৫০০ অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সম্প্রতি চালানো এই অভিযানে পুরো সৌদি আরব জুড়ে বিভিন্ন স্থানে এদের আটক করা হয় বলে জানিয়েছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
অভিযানে ১৩ হাজার ৮০০ জনকে অবৈধ বসবাসের দায়ে, ৫ হাজার ২০০ জনকে সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের জন্য এবং ৩ হাজার ৪০০ জনকে শ্রম আইন ভঙ্গের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এছাড়া, সৌদি আরবে অবৈধভাবে প্রবেশের চেষ্টা করার সময় ১ হাজার ৬৮৭ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৬১ শতাংশ ইথিওপিয়ান, ৩৮ শতাংশ ইয়েমেনি এবং বাকি ১ শতাংশ অন্যান্য দেশের নাগরিক।অন্যদিকে, সৌদি আরব থেকে অবৈধভাবে পালানোর সময় ধরা পড়েছে আরও ৪০ জন। অবৈধ অভিবাসীদের আশ্রয়, পরিবহন এবং অবৈধভাবে কাজে নিয়োজিত রাখার দায়ে ১৫ জন সহযোগীও গ্রেফতার হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ১৮ হাজার ৩০০ জন অভিবাসী আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, যাদের মধ্যে ১৫ হাজার ৭০০ জন পুরুষ এবং ২ হাজার ৫০০ জন নারী। ইতোমধ্যে ১১ হাজার অভিবাসীকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে এবং আরও ১১ হাজার জনকে দূতাবাসের মাধ্যমে দেশে ফেরানোর জন্য কাগজপত্র প্রস্তুত করা হচ্ছে। ফেরত পাঠানোর অপেক্ষায় রয়েছে ৩ হাজার ২০০ জন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, যারা অবৈধ অভিবাসীদের দেশে প্রবেশ, পরিবহন কিংবা আশ্রয়দানে সহায়তা করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এসব অপরাধের জন্য ১৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, ১০ লাখ সৌদি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা, এবং অপরাধে ব্যবহৃত গাড়ি ও বাড়ি বাজেয়াপ্ত করার বিধান রয়েছে।
এছাড়া, যারা এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকবে, তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হবে এবং সামাজিকভাবে লজ্জিত করা হবে বলেও সতর্ক করেছে মন্ত্রণালয়।
জনগণকে অবৈধ অভিবাসন ও অনৈতিক কার্যক্রম দ্রুত জানানোর আহ্বান জানিয়ে বলা হয়েছে, মক্কা, রিয়াদ ও পূর্বাঞ্চলের জন্য ৯১১ নম্বরে, এবং অন্যান্য অঞ্চলের জন্য ৯৯৯ ও ৯৯৬ নম্বরে অভিযোগ জানাতে হবে।
সৌদি সরকার জানিয়েছে, এই ধরনের অপরাধকে ‘গুরুতর অপরাধ’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও শ্রম বাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতেই এ ধরনের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
সূত্র:সৌদি গেজেট