বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাম্প্রতিক প্রশাসনিক পুনর্গঠন এখন আইনি জটিলতায়। তামিম ইকবালের নেতৃত্বে গঠিত ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটির গঠন ও কার্যকারিতা নিয়ে হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের কয়েকজন আইনজীবী, যার মধ্যে অ্যাডভোকেট মো. গোলাম কিবরিয়া রয়েছেন, হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ আবেদন জমা দেন। রিটে বলা হয়, নির্বাচিত পরিচালনা পর্ষদকে সরিয়ে অ্যাডহক কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত আইনগত ভিত্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাই পুরো প্রক্রিয়ার বৈধতা আদালতে পর্যালোচনার দাবি জানানো হয়েছে।
রিটে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের চেয়ারম্যান, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন পরিচালক এবং বিসিবির নতুন অ্যাডহক কমিটির সভাপতি তামিম ইকবালকে বিবাদী করা হয়েছে।
আবেদনকারীদের মতে, গত ৬ অক্টোবর নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত বিসিবি পরিচালনা পর্ষদ নির্ধারিত সময় অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছিল। তবে ৭ এপ্রিল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের একটি নির্দেশনার মাধ্যমে সেই নির্বাচিত কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে নতুন অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়।
রিটে আরও বলা হয়েছে, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ আইন ২০১৮-এর ২১ ধারা উল্লেখ করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও বাস্তবে ওই ধারা প্রয়োগের মতো পরিস্থিতি ছিল না। সাধারণত কোনো কমিটি দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে বা গুরুতর অনিয়মে জড়ালে তবেই অ্যাডহক কমিটি গঠনের সুযোগ থাকে। কিন্তু বিসিবির ক্ষেত্রে এমন কোনো প্রমাণিত অভিযোগ ছিল না বলে দাবি করা হয়েছে।
আইনজীবীদের ভাষ্য, নির্বাচিত বোর্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই সেটি ভেঙে দেওয়া হলে তা ক্রীড়া প্রশাসনের স্বায়ত্তশাসন ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে ক্রীড়া পরিচালনায় অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
বর্তমানে বিসিবির অ্যাডহক কমিটির সভাপতির দায়িত্বে আছেন সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন রাশনা ইমাম, মির্জা ইয়াসির আব্বাস, সৈয়দ ইব্রাহিম আহমেদ, ইসরাফিল খসরু, মিনহাজুল আবেদীন নান্নু, আতহার আলী খান, তানজিল চৌধুরি, সালমান ইস্পাহানি, রফিকুল ইসলাম বাবু এবং ফাহিম সিনহা।