শনিবার (৫ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টায় নওগাঁ শহরের নওজোয়ান মাঠে ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচির পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, “এক বছর পার হলেও বিচার সংস্কার ও নতুন সংবিধানের বিষয়ে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেই। তাই এ দুটি বিষয়ই আমাদের প্রধান দাবি। দেশকে পুনর্গঠন করতে হলে এই দুই সংস্কারই জরুরি।”
তিনি নওগাঁবাসীর উদ্দেশ্যে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে আপনারা আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। আমরা কেবল বলছি না, শুনছিও—শহীদ পরিবারের কথা, সাধারণ মানুষের কথা শুনছি।”
নওগাঁর সড়ক পরিস্থিতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, “গত ১৫ বছর ধরে আমরা শুধু উন্নয়নের গল্প শুনেছি। কিন্তু বাস্তবে সেই উন্নয়ন মিথ্যা প্রতিশ্রুতি ছাড়া কিছুই নয়। জনগণের সঙ্গে প্রতারণার সময় শেষ হয়েছে।”
তিনি বলেন, “গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে একটি বিকল্প নেতৃত্ব তৈরি হয়েছে, যা দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ১৬ বছর ধরে দেশের জনগণ নিপীড়নের শিকার হয়েছে। এবার সেই ইতিহাস বদলাতে হবে।”
এনসিপি নওগাঁ জেলা শাখার প্রধান সমন্বয়কারী মুনিরা শারমিন বলেন, “নওগাঁয় উন্নত চিকিৎসা সেবা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস দ্রুত চালু করতে হবে। আমি নওগাঁর মেয়ে হিসেবে চাই, আপনারা এনসিপির পাশে থাকুন।”
জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, “গণহত্যার প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও বিচার হচ্ছে না। আওয়ামী লীগের বিচার এবং শেখ হাসিনার বিচার এই দেশের মাটিতেই হতে হবে।”
এর আগে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় শহরের বালুডাঙা বাসস্ট্যান্ড থেকে রুবির মোড় পর্যন্ত ভ্যানগাড়িতে করে পদযাত্রায় অংশ নেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা। পরে পায়ে হেঁটে নওজোয়ান মাঠে এসে পথসভায় অংশ নেন।
সভাস্থল ছিল স্লোগানে মুখরিত—‘দালালি না রাজপথ’, ‘আপোষ না সংগ্রাম’, ‘চাঁদাবাজের বিরুদ্ধে ডাইরেক্ট অ্যাকশন’ প্রভৃতি স্লোগানে প্রকম্পিত হয় গোটা এলাকা।
সভা সঞ্চালনায় ছিলেন এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম ও দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। আরও উপস্থিত ছিলেন জ্যেষ্ঠ সমন্বয়কারী আব্দুল হান্নান মাসউদ, নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।