আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলছেন, সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদে প্রতিটি নাগরিকের আইনের আশ্রয় পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করা আছে। অভিযোগ প্রমাণ না হওয়া পর্যন্ত কাউকে নির্দোষ ধরা এটাই আইনের শাসনের মূল ভিত্তি। কিন্তু সাম্প্রতিক সংশোধনীগুলোতে সেই নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক দিক আছে বলে তাদের অভিযোগ। এসব পরিবর্তন আইনের শাসন ও সংবিধান প্রদত্ত মৌলিক অধিকারকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
তারা আরও বলেন, দুদক আইনের পরিবর্তনের ফলে তদন্ত পর্যায়েই আন্ডারকাভার তদন্ত, ব্যাংক হিসাব জব্দ এবং সম্পত্তি ক্রোকের মতো পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। এতে ক্ষমতার অপব্যবহারের ঝুঁকি বাড়তে পারে বলেও তারা মনে করছেন।
সূত্র বলছে, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দুদক সংস্কার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আইন মন্ত্রণালয় থেকে দুদক আইন-২০০৪ সংশোধনের প্রস্তাব দিয়ে ২৩ ডিসেম্বর প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
পরবর্তীতে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ১২ মার্চ সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। ওই অধিবেশনে দুদক সংশোধনসহ মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশ উত্থাপন করা হয়। এর মধ্যে ১১৩টি পাস, ৭টি বাতিল এবং ১৩টি অনিষ্পন্ন থাকে।
এই অনিষ্পন্ন ১৩টির মধ্যেই দুদক সংশোধন অধ্যাদেশ ছিল। আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময় পার হওয়ায় ১১ এপ্রিল থেকে এসব অধ্যাদেশ কার্যকারিতা হারায় এবং পুরোনো দুদক আইন-২০০৪ আবার কার্যকর হয়।
আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশের মত, বিতর্কিত সংশোধনীগুলো সংবিধানের মূল চেতনার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। সেই কারণেই অন্তর্বর্তী সরকারের আনা অধ্যাদেশগুলো গ্রহণ না করাকে তারা যুক্তিসঙ্গত বলেই দেখছেন।
সব মিলিয়ে দুদক আইন সংশোধন ঘিরে রাজনৈতিক ও আইনি অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আইনের শাসন, নাগরিক অধিকার এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সীমা নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হচ্ছে।