পররাষ্ট্র উপদেষ্টা জানিয়েছেন, বাংলাদেশ এখন থেকে বিশ্ব সম্প্রদায়ের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলবে পারস্পরিক সম্মান, ভারসাম্য ও জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে। এই নীতির মূল কাঠামো হবে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’, যা কোনো নির্দিষ্ট দেশকেন্দ্রিক নয় বরং বহুমাত্রিক পররাষ্ট্রনীতি হিসেবে পরিচালিত হবে।
রোববার রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ (বিআইপিএসএস) আয়োজিত ‘সবার আগে বাংলাদেশ : নতুন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির দৃষ্টিভঙ্গি’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক শক্তি বিন্যাস দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। একক আধিপত্যের যুগ শেষের দিকে, নতুন অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হচ্ছে। এ অবস্থায় বাংলাদেশকে কৌশলগতভাবে নমনীয়, ভারসাম্যপূর্ণ ও বাস্তবভিত্তিক পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করতে হবে।
অর্থনৈতিক কূটনীতিকে নতুন সরকারের পররাষ্ট্রনীতির প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ, বৈচিত্র্যময় বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আঞ্চলিক বাণিজ্য ও যোগাযোগ জোরদার করা হবে।
জলবায়ু পরিবর্তন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ শুধু ক্ষতিগ্রস্ত দেশ নয়, বরং জলবায়ু ন্যায়বিচার ও ন্যায্য আন্তর্জাতিক অর্থায়নের দাবিতে বৈশ্বিক কূটনীতিতে নেতৃত্ব দিতে চায়। একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ সুশাসন, গণতন্ত্র ও আইনের শাসন জোরদার করাকেই আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার ভিত্তি হিসেবে দেখছে সরকার।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিআইপিএসএস-এর প্রেসিডেন্ট মেজর জেনারেল (অব.) এ. এন. এম মুনিরুজ্জামান। এতে কূটনীতিক, শিক্ষাবিদ, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।