শুক্রবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে অনুষ্ঠিত বেঙ্গল ডেলটা কনফারেন্স ২০২৫-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, লক্ষ লক্ষ তরুণ-তরুণী ইতোমধ্যে আট বছর ধরে আশ্রয়শিবিরে আশাহীন জীবনে বেড়ে উঠছে। ভবিষ্যতে তারা এই অচলাবস্থাকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে, যা বড় ধরনের সংকট তৈরি করবে।
আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট টেনে তিনি বলেন, ফিলিস্তিন ইস্যুতে বৈশ্বিক জনমত দ্রুত বদলাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্ধেকের বেশি নাগরিক এখন মনে করে, ইসরায়েল সেখানে অপরাধ করছে। এমনকি বহু ইহুদি বুদ্ধিজীবীও এ নিয়ে সোচ্চার হয়েছেন।
অর্থনীতি ও ভূ-রাজনীতির প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্ক নতুন পথে অগ্রসর হচ্ছে। আগে চীনকে ঘিরে নীতি নির্ধারিত হলেও বর্তমানে ভারত ও চীন প্রায় একই সুরে কথা বলছে। তবে এসব পরিবর্তনকে চূড়ান্ত মনে করার সুযোগ নেই, কারণ মৌলিক ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা এখনও মূলত অপরিবর্তিত রয়েছে।
‘এশীয় শতাব্দী’ প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, ২১ শতক এশিয়ার হলেও ২২ শতক আরও বেশি এশিয়ার প্রভাবময় হতে পারে। জনসংখ্যাগত সুবিধা এ প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেবে। এরপর আফ্রিকার সম্পদ নিয়ন্ত্রণ বিশ্ব রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বাংলাদেশ প্রসঙ্গে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, দেশের তরুণ প্রজন্মই ভবিষ্যতের পরিবর্তনের চালিকা শক্তি হবে। তারা অতীতের রাজনীতিতে ফিরবে না। অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়েই তারা শিখবে, হয়তো কঠিন পথ পাড়ি দিয়ে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত রাজনীতিকে কম হিংস্র ও বেশি গঠনমূলক করে তুলবে। আগামী ১০-১৫ বছরের মধ্যেই এ পরিবর্তন ধরা দেবে।
তবে শিক্ষা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তার মতে, বিশেষ করে গ্রামীণ জনপদে গণশিক্ষার মান ভয়াবহভাবে নেমে গেছে। বহু শিক্ষার্থী মাতৃভাষা পড়তেও হিমশিম খায়। গত দুই দশকের এই পশ্চাদপদতা কাটিয়ে ওঠা জরুরি। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গবেষণামুখী হওয়ার পাশাপাশি মাদ্রাসাসমূহকে আরবি ও ইসলামিক স্টাডিজের সীমাবদ্ধতা থেকে বেরিয়ে এসে জ্ঞানচর্চার বিস্তৃতি ঘটানোর আহ্বান জানান।
শেষে তিনি বলেন, “সবকিছুই রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হলেও কেবল রাজনৈতিক দল দিয়ে উন্নয়ন সম্ভব নয়। প্রয়োজন প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করা, শিক্ষার মানোন্নয়ন ও তরুণদের দক্ষতা বৃদ্ধি। তাহলেই বাংলাদেশ ভবিষ্যতে দৃঢ় অবস্থান তৈরি করতে পারবে।”