রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যৌথ অভিযানে সহস্রাধিক ধারালো অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। শুক্রবার (৯ আগস্ট) গভীর রাত থেকে শনিবার ভোর পর্যন্ত পরিচালিত এ অভিযানে অন্তত তিনটি দোকান ও গুদাম ঘেঁষে রাখা বিপুল পরিমাণ অস্ত্র জব্দ করা হয়।
সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উদ্ধারকৃত অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে সামুরাই ছুরি, চাপাতি, চাইনিজ কুড়াল, বাংলা কুড়াল, চাকু, মিট হ্যামার এবং বিভিন্ন ধরনের দেশীয় দা। প্রাথমিক গণনায় এসব অস্ত্রের সংখ্যা ১,১০০টির বেশি বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাং ও সন্ত্রাসী চক্রের সহিংস কর্মকাণ্ড বেড়ে যাওয়ায় এসব অস্ত্র কোথা থেকে আসছে তা চিহ্নিত করতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়। সেনাবাহিনীর সূত্র অনুযায়ী, নিউমার্কেট এলাকায় কিছু দোকান ও গুদামে দীর্ঘদিন ধরে এসব অস্ত্র মজুত ছিল, যা গোপনে সরবরাহ করা হতো সন্ত্রাসী ও অপরাধী চক্রের কাছে।
অভিযানকালে এসব অস্ত্র বিক্রি ও সরবরাহের অভিযোগে ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা অস্ত্রগুলো ব্যবসায়িক আড়ালে সংগ্রহ ও বিক্রির কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে সেনাবাহিনী। সেনা কর্মকর্তারা জানান, এসব অস্ত্র কোনোভাবেই গৃহস্থালি কাজে ব্যবহারের উপযোগী নয়। এগুলো কেবল সহিংস অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের জন্যই ব্যবহার হয়, যা জননিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি।
অভিযান শেষে উদ্ধারকৃত অস্ত্রগুলোর চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে। ইতোমধ্যে সেনাবাহিনী, র্যাব ও পুলিশ যৌথভাবে এসব অস্ত্র কোথা থেকে এসেছে এবং কারা এর পেছনে জড়িত, তা উদঘাটনের চেষ্টা করছে। পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি অস্ত্র সরবরাহ চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এই অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকে সেনাবাহিনীর এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং আশা প্রকাশ করেছেন যে, এর ফলে কিশোর গ্যাং ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম কমে আসবে। তবে কিছু ব্যবসায়ী মনে করছেন, এর মাধ্যমে নির্দোষ দোকানিদের হয়রানি করা হতে পারে।
রাজধানীর জননিরাপত্তা নিশ্চিত ও সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই অভিযানকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ধারালো অস্ত্রের অবৈধ ব্যবসা দমন না করা গেলে সহিংসতা বন্ধ হবে না। তাই এ ধরনের অভিযান চলমান রাখা জরুরি।