হাদিস অনুযায়ী, শাবান এমন একটি মাস যা রজব ও রমজানের মাঝামাঝি হওয়ায় অনেকেই গুরুত্ব দেয় না। অথচ এ সময় বান্দার আমল আল্লাহর কাছে উপস্থাপন করা হয়। তাই নবী ﷺ চাইতেন, তাঁর আমল যেন রোজা অবস্থায় পেশ হয়। এ কারণে তিনি শাবান মাসে বেশি নফল রোজা রাখতেন। আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, রমজান ছাড়া অন্য কোনো মাসে তিনি এত বেশি রোজা রাখতেন না যতটা শাবানে রাখতেন।
শাবানের ১৫ তারিখের রাত ‘লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান’ নামে পরিচিত, যা আমাদের সমাজে শবে বরাত নামে প্রচলিত। হাদিসে এসেছে, এ রাতে আল্লাহ তাআলা বান্দাদের প্রতি বিশেষ রহমত বর্ষণ করেন এবং অনেককে ক্ষমা করেন। তবে শিরককারী ও বিদ্বেষ পোষণকারীরা এ রহমত থেকে বঞ্চিত হয়।
ইসলামি চিন্তাবিদরা বলেন, শাবান মূলত রমজানের প্রস্তুতির মাস। এ সময় কুরআন তিলাওয়াত, নফল নামাজ, ইস্তিগফার ও দোয়া বাড়ালে রমজানে ইবাদতের ধারাবাহিকতা সহজ হয়। পাশাপাশি অন্তরের হিংসা-বিদ্বেষ দূর করে তওবা করা এ মাসের গুরুত্বপূর্ণ আমল।
তবে শবে বরাত ঘিরে সমাজে প্রচলিত কিছু ভিত্তিহীন রীতি পরিহার করে কুরআন-হাদিসসম্মত আমলে মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন আলেমরা।
শাবান তাই কেবল একটি মাস নয়; এটি রমজানের জন্য নিজেকে গড়ে তোলার এক মূল্যবান সুযোগ।