বর্তমানে ষষ্ঠ সপ্তাহে এসেও দেশের সবচেয়ে বড় মাল্টিপ্লেক্স চেইন স্টার সিনেপ্লেক্সে প্রতিদিন ১৫টি শো পাচ্ছে ‘উৎসব’। অন্যদিকে, ‘তাণ্ডব’ এখন চলছে কেবল দুটি শাখায়, দিনে মাত্র দুটি শো করে।
প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের তথ্যমতে, প্রথম ৩০ দিনে ‘উৎসব’-এর টিকিট বিক্রি হয়েছে প্রায় ৫ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। একই সময়ে ‘তাণ্ডব’ আয় করেছে ১০ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। তবে আয় বেশি হলেও শো সংখ্যা নাটকীয়ভাবে কমে গেছে ‘তাণ্ডব’-এর। তার অন্যতম কারণ—মুক্তির কয়েক দিনের মধ্যেই সিনেমাটি পাইরেসির শিকার হয়। ফলে অনেক দর্শক হলে না গিয়ে অনলাইনেই সিনেমাটি দেখে ফেলেন, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে হলে দর্শকসংখ্যা ও আয় কমে যাওয়ায়।
Bangla Movie Review (BMR) সূত্রে জানা যায়, মুক্তির ৩১তম দিনে ‘উৎসব’ মাল্টিপ্লেক্স থেকে তার একদিনের সর্বোচ্চ আয় করে—৩১ লাখ টাকা। অন্যদিকে, পাইরেসির কবলে পড়া ‘তাণ্ডব’-এর আয় নেমে আসে মাত্র ৩ লাখ টাকার ঘরে।
‘উৎসব’ পরিচালনা করেছেন তানিম নূর। প্রযোজনায় ছিল ডোপ প্রডাকশনস ও লাফিং এলিফ্যান্ট। চিত্রনাট্যে ছিলেন আয়মান আসিব স্বাধীন, সুস্ময় সরকার ও সামিউল ভূঁইয়া। মূল চরিত্রে ছিলেন ৯০ ও শূন্য দশকের নস্টালজিক মুখ জাহিদ হাসান। আরও অভিনয় করেছেন জয়া আহসান, চঞ্চল চৌধুরী, অপি করিম, আফসানা মিমি, তারিক আনাম খান, ইন্তেখাব দিনার, আজাদ আবুল কালাম, সুনেরাহ বিনতে কামাল, সৌম্য জ্যোতি ও সাদিয়া আয়মান।
অন্যদিকে, ‘তাণ্ডব’ পরিচালনা করেছেন বর্তমান সময়ের আলোচিত পরিচালক রায়হান রাফি। প্রযোজনায় ছিল ভারতের এসভিএফ এবং বাংলাদেশের আলফা আই এন্টারটেইনমেন্ট। প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন বাংলাদেশের মেগাস্টার শাকিব খান, ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাবিলা নূর এবং দুই বাংলার সুপরিচিত মুখ জয়া আহসান। আরও ছিলেন আফজাল হোসেন, শহীদুজ্জামান সেলিম, গাজী রাকায়াতসহ অনেকে। চমক হিসেবে অতিথি চরিত্রে ছিলেন সিয়াম আহমেদ এবং ‘সুড়ঙ্গ’ খ্যাত আরফান নিশো।
‘উৎসব’-এর এই সাফল্যের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে দর্শকের দুর্দান্ত প্রশংসা ( Positive word of mouth) এবং অভিনয়শিল্পীদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স। সিনেমাপ্রেমীরা মনে করছেন, একশন-থ্রিলার বা কমার্শিয়াল ঘরানার পাশাপাশি এমন ফিলগুড ড্রামা নিয়মিত হলে মুক্তি পেলে সব ধরনের দর্শক আবার প্রেক্ষাগৃহে ফিরবে।