সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথগ্রহণ থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে বিএনপি কার্যত জনগণের রায় ও সংস্কার প্রক্রিয়ার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে এমন মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা তুলে ধরেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকারের মন্ত্রিসভায় কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন না আসায় বিএনপির প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ব্যবসায়ী, ঋণখেলাপি ও হত্যা মামলার আসামি নিয়ে গঠিত একটি সংসদ কীভাবে সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষা করবে এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে? তার দাবি, সংসদ সদস্যদের মধ্যে যাদের কাছে বিপুল অঙ্কের খেলাপি ঋণ রয়েছে, তাদের আগে সেই দায় পরিশোধ করা উচিত; এরপর দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান নিলে তা বিশ্বাসযোগ্য হবে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা খলিলুর রহমানের মন্ত্রিত্ব ও নির্বাচন প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। সরকারের নীরব সমর্থনে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা চলছে বলেও দাবি করেন তিনি। বিচার কার্যক্রম চলমান থাকা অবস্থায় আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক অঙ্গনে ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হলে তা প্রতিরোধ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন এনসিপি আহ্বায়ক।
তিনি সতর্ক করে বলেন, গণভোট বাতিল করা হলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়বে।
এছাড়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কাঠামো পরিবর্তনের বিরোধিতা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, এটি একটি জাতীয় বিষয়— একে রাজনৈতিক বিতর্কে জড়ানো উচিত নয়। তার অভিযোগ, সংসদীয় সুবিধা যথাযথভাবে গ্রহণ না করেই ঋণখেলাপিদের সংসদে এনে নিজেদের দায় এড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।