উৎসবে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন প্রকারের মুখরোচক পিঠা নিয়ে অংশ নেন। নারকেল পুলি, ইলিশ পিঠা, দুধ পুলি, ভাপা, পোয়া, পাটিসাপটা, ঘর কন্যা, কুটুম ও হাতকুলি ছাড়াও বিক্রি করা হয় মিষ্টি, কেক, চা ও লাড্ডু। এছাড়া চুড়ি, ফিতা ও গোলাপ ফুলের স্টলও ছিল।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবুল হোসেন শিক্ষার্থীদের উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন,"আমরা প্রতি বছরই গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে পিঠা উৎসব আয়োজন করি। পিঠা যেমন বাঙালির ঐতিহ্য, তেমনি পিঠা উৎসবও গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। এবছর এখানে ২০ টি স্টল রয়েছে, প্রতিটি স্টলেই নানা ধরনের পিঠা পাওয়া যাচ্ছে। এই আয়োজন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ।"
কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি (ভিপি) ইয়াসিন আল মৃদুল দেওয়ান বলেন,"গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে প্রতিবছরই গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে পিঠা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। সেই ধারাবাহিকতায় এবারও আয়োজন করা হয়েছে পিঠা উৎসব। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ তাদের নিজস্ব স্টল দিয়ে অংশ নিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, রেজিস্ট্রার ও অন্যান্য শিক্ষকরা স্টলগুলো পরিদর্শন করেন। শিক্ষার্থীরা তাদের স্টলে গ্রাম বাংলার নানা প্রকারের সুস্বাদু পিঠা প্রদর্শন করেছেন। আশা করি ভবিষ্যতেও আরও বড় ও সমৃদ্ধভাবে পিঠা উৎসব আয়োজন করা হবে।"
আইন বিভাগের শিক্ষার্থী কাজী আবরার বলেন,
"শহরের হট্টগোল ও ব্যস্ত জীবনের মধ্যে গ্রামীণ পিঠার ঐতিহ্য ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। তবে এই উৎসবে স্টলগুলো এত সুন্দরভাবে সাজানো হয়েছে যে, মুহূর্তেই গ্রামে পৌঁছে যাওয়ার অনুভূতি হয়েছে। মায়ের বা দাদুর বাড়িতে পিঠা খাওয়ার সেই স্মৃতিগুলো মনে পড়ে গেছে।"
মেলার স্টলগুলো আলাদা ও আকর্ষণীয়ভাবে সাজানো ছিল। এর মধ্যে ছিল পিঠা পুলির ঝুলি, পিঠা গবেষণা কেন্দ্র, পৌষালী সমাহার, পিঠারণ্য, পথের পিঠাঘর, পিঠা ব্যালট ঘর, কুটুম বাড়ি, পিঠা নীড়, সমীকরণে পিঠা সাজাই, পিঠার সাত কাহন, আইনের পিঠা-ঘর, সামাজিক পিঠা ঘর, টোনাটুনির পিঠাঘর, পৌষের স্বাদ, পিঠা ও Poetry, পিঠা-পল্লী, স্বাদবিন্দু, ঐতিহ্যের টাঙ্গাইল ও আদিবাসী পিঠাঘর। কলাগাছ, আলপনা, বেলুন ও ফেস্টুন দিয়ে স্টলগুলো সাজানো হয়, যাতে গ্রামীণ পরিবেশের ছোঁয়া পাওয়া যায়।
অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল পিঠা প্রদর্শনী, শিক্ষার্থীদের নৃত্য ও লোকগান, সেরা স্টল নির্বাচন এবং পুরস্কার বিতরণ। রাতে গান পরিবেশন করবে জনপ্রিয় ব্যান্ড অড সিগনেচার।
উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. সিরাজুল ইসলাম, রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. ওহিদুজ্জামান, বিভিন্ন অনুষদের ডিন ও বিভাগীয় প্রধান, কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (গকসু) এবং অন্যান্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে গণ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (গবিসাস) উদ্যোগে প্রথমবারের মতো পিঠা উৎসব আয়োজন করা হয়। পরবর্তীতে ২০১৭ ও ২০২০ সালে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ এই আয়োজন সম্পন্ন করে। সর্বশেষ, গত বছরও শীতকালীন পিঠা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছিল।