বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে উপজেলা ভূমি কার্যালয়ে যমুনা টেলিভিশনের গাইবান্ধা প্রতিনিধি জিল্লুর রহমান পলাশ ও সময় টিভির প্রতিনিধি হেদায়েতুল ইসলাম বাবু তথ্য সংগ্রহের জন্য যান।
জানা যায়, ধাপেরহাট ইউনিয়নের হাসানপাড়া মৌজায় সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় অধিগ্রহণ হওয়া কিছু জমির ক্ষতিপূরণ বিতরণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি অর্পিত সম্পত্তিকে ব্যক্তি মালিকানাধীন দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ ক্ষতিপূরণের অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে।
সাংবাদিকরা জানান, বিষয়টি নিয়ে বক্তব্য জানতে গেলে এসিল্যান্ড প্রথমে তাদের মোবাইল ফোন ও ক্যামেরা টেবিলে রাখতে বলেন। পরে ক্ষতিপূরণ বিতরণ এবং জমির মালিকানা সংক্রান্ত প্রশ্ন করা হলে তিনি বিরক্তি প্রকাশ করেন এবং তাদের কার্যালয় থেকে বের হয়ে যেতে বলেন। একপর্যায়ে কোনো বক্তব্য না দিয়েই কক্ষ ত্যাগ করেন।
স্থানীয়ভাবে আলোচিত এ ঘটনায় আরও জানা যায়, একই জমি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে দেওয়া সরকারি প্রতিবেদনে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে। ২০২২ সালের এক প্রতিবেদনে জমিটিতে সরকারি স্বার্থ নেই বলে উল্লেখ করা হলেও পরবর্তী একটি প্রতিবেদনে সেটিকে অর্পিত ‘ক’ তফসিলভুক্ত সম্পত্তি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এই পার্থক্যের কারণ জানতে গিয়েই সাংবাদিকরা তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেন।
যমুনা টেলিভিশনের প্রতিনিধি জিল্লুর রহমান পলাশ বলেন, একই জমি সম্পর্কে ভিন্নধর্মী সরকারি প্রতিবেদনের বিষয়ে ব্যাখ্যা জানতে চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রশ্নের জবাব না দিয়ে এসিল্যান্ড ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসানকেও বিষয়টি জানানো হলে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
রংপুর বিভাগীয় কমিশনার মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, অভিযোগের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হবে। তদন্তে কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।