সূত্র জানায়, গত ৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে একটি চিঠি পাঠান আরমান। সেখানে তিনি ‘নগদ ডিজিটাল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস’-এ সম্ভাব্য বিনিয়োগের আগে পূর্ণাঙ্গ নিরীক্ষা পরিচালনার অনুমতি চান। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ পরিকল্পনা নির্ধারণে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ও পরিচালনাগত অবস্থা যাচাই করা প্রয়োজন।
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ‘নগদ’-এর মতো একটি প্রতিষ্ঠানে মালিকানা গ্রহণ বা বড় বিনিয়োগের পরিমাণ হাজার কোটি টাকার ঘরে পৌঁছাতে পারে। শুধু প্রযুক্তি অবকাঠামোতেই ব্যয় হতে পারে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা। সেই প্রেক্ষাপটে হলফনামায় ২ কোটি টাকার সম্পদ ঘোষণাকারীর এমন আগ্রহ প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে সরব নেটিজেনরা। অনেকেই হলফনামার তথ্য ও সম্ভাব্য বিনিয়োগের অঙ্কের মধ্যে বিস্তর ব্যবধান নিয়ে কটাক্ষ করছেন।
চিঠিতে যা বলা হয়েছে
গভর্নরকে পাঠানো চিঠিতে আরমান জানান, বিদেশি অংশীদারদের সঙ্গে দেশে একটি ডিজিটাল ব্যাংক প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। এ বিষয়ে এর আগে গভর্নরের সঙ্গে বৈঠকও হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। চিঠিতে দাবি করা হয়, আগের সরকারের সময়কার অনিয়মের কারণে ‘নগদ’ বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে রয়েছে এবং নতুন মালিকানা ও ব্যবস্থাপনার কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান।
এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে আগ্রহ প্রকাশের পাশাপাশি তিনি একটি পূর্ণাঙ্গ ফরেনসিক অডিটের অনুমতি চান, যাতে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থা, ঝুঁকি ও সম্ভাবনা স্পষ্টভাবে বোঝা যায়।
বিনিয়োগের উৎস নিয়ে প্রশ্ন
বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করা হলেও তাদের পরিচয় ও অর্থের উৎস সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য নেই। হলফনামার ঘোষিত সম্পদের সঙ্গে বর্তমান বিনিয়োগ পরিকল্পনার বড় ব্যবধান থাকায় স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিশ্লেষকরা।
উল্লেখ্য, ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম জামায়াতে ইসলামীর প্রয়াত নেতা মীর কাসেম আলীর ছেলে। ২০১৬ সালে তিনি গুম হন এবং দীর্ঘ আট বছর আটক থাকার পর ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর মুক্তি পান।
অন্যদিকে, আগের সরকারের পতনের পর আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে ‘নগদ’-এর পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে সেখানে প্রশাসক নিয়োগ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ কাঠামো নিয়ে কাজ চলছে। এর মধ্যেই আরমানের চিঠি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনও জানা যায়নি। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একটি সূত্র জানিয়েছে, যেকোনো মালিকানা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে আইনি ও আর্থিক স্বচ্ছতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।