রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার বড়কামতা ইউনিয়নের ব্রাহ্মণখাড়া গ্রামে আয়োজিত উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, এক সময় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল— যার পেছনে যত গুন্ডা, সে-ই তত বড় নেতা। কিন্তু আসল নেতৃত্ব গড়ে ওঠে নেতার ব্যক্তিগত গুণাবলী থেকে, হোন্ডা-গুন্ডার শক্তি থেকে নয়। তিনি আরও বলেন, এনসিপি হলো ন্যায়-ইনসাফের পক্ষের দল। যদি আপনি ন্যায়ের পাশে থাকেন, তবে আপনাকে এনসিপির পক্ষের মানুষ হিসেবেই ধরা হবে। এই দলে থেকে অবিচার বা বেইনসাফি করার কোনো সুযোগ নেই। নেতা হয়ে অন্যায় করে হাজার হাজার লোক জড়ো করারও প্রয়োজন নেই।
তিনি আহ্বান জানান— সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। প্রতিটি গ্রাম, মহল্লা ও ইউনিয়নভিত্তিক ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে অপশক্তি, অনাচার ও অবিচারের বিরুদ্ধে। তিনি বলেন, “এনসিপি সবসময় সত্যের পক্ষে থাকে। আপনারা যদি ন্যায়ের পথে থাকেন, আমি হাসনাত আব্দুল্লাহ সবসময় আপনাদের পাশে থাকব।”
এনসিপির এই নেতা আরও মন্তব্য করেন, “অপরাধ করতে শক্তি লাগে। রাজনৈতিক আশ্রয়ে স্থানীয়ভাবে অনেকেই অপরাধী হয়ে ওঠে। কিন্তু যদি গ্রাম পর্যায়ের সাধারণ মানুষ অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দাঁড়ায়, তবে অপরাধীরা আর সাহস করবে না।”
তিনি অভিযোগ করে বলেন, যারা অপরাধ দমনের দায়িত্বে, অনেক সময় তাদের সঙ্গেই অপরাধীদের সুসম্পর্ক থাকে। থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে দেখা যায় অপরাধীরা পুলিশের সঙ্গে বসে চা খাচ্ছে। এমপি-চেয়ারম্যানদের প্রভাবের কারণে পুলিশও বাধ্য হয় অনেক ক্ষেত্রে নীরব থাকতে। তিনি বলেন, জনগণের পাশে থাকতে এমপি বা চেয়ারম্যান হওয়া জরুরি নয়— সত্য কথা বলার সাহস থাকলেই যথেষ্ট। আর কেউ যদি সত্য বলা আটকাতে চায়, অন্যায়ভাবে বাধা দেয়, তবে আমি নিজে জনগণের পাশে দাঁড়াব।
দেবিদ্বার উপজেলার প্রধান সমন্বয়কারী জামাল মোহাম্মদ কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই উঠান বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন— এনসিপির কেন্দ্রীয় সংগঠক মো. আরমান হোসাইন, জাতীয় যুব শক্তির কেন্দ্রীয় সংগঠক নাজমুল হাসান নাহিদ, সার্চ কমিটির সদস্য কাদির আহমেদ ও সাকিল আহমেদ প্রমুখ।