রাঙামাটিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জুলাই পদযাত্রায় দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, গণতন্ত্রের বিকাশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও দায়িত্বশীল সমালোচনা অপরিহার্য। তিনি বলেন, বিভাজনের রাজনীতি নয়, বরং সকল জনগোষ্ঠীর মর্যাদা নিশ্চিত করে নতুন সংবিধান প্রণয়নের এখনই সময়। পার্বত্য চট্টগ্রামের দীর্ঘস্থায়ী সংকটের সমাধান স্থানীয় জনগণের ঐক্য ও সংহতির মাধ্যমেই সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
রোববার (২০ জুলাই) রাঙামাটিতে আয়োজিত এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। সেখানে তিনি রাজনৈতিক দলগুলোকে গণতান্ত্রিক পরিবেশে মতপ্রকাশ ও গঠনমূলক সমালোচনার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, “গণতন্ত্র কেবল একটি ব্যবস্থাই নয়, এটি দায়িত্বশীলতারও জায়গা। রাজনৈতিক মতভেদ থাকা স্বাভাবিক, তবে সেটি যেন শালীনতা ও যুক্তির সীমার মধ্যে থাকে।”
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, “আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই যেখানে সব ধর্ম, জাতি ও সম্প্রদায়ের মানুষ সমান অধিকার ও মর্যাদায় বসবাস করতে পারবে। অতীতে দেশকে বারবার বিভাজিত করার চেষ্টা হয়েছে, যার সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণ। এখানে বহুবছর ধরে এক ধরনের অস্থিরতা ও কৃত্রিম দ্বন্দ্ব জিইয়ে রাখা হয়েছে—যাতে একটি বিশেষ মহল সুবিধা নিতে পারে।”
তিনি হুঁশিয়ার করে বলেন, “এই এলাকা নিয়ে আর কাউকে রাজনৈতিক খেলা করতে দেওয়া হবে না। স্থানীয় জনগণের মধ্যে যদি কোনও সমস্যা থাকে, আমরা নিজেরাই তার সমাধান করবো—বাইরের কারো হস্তক্ষেপের প্রয়োজন নেই। এজন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া জরুরি।”
সংবিধান নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “১৯৭২ সালের সংবিধান মুজিববাদী আদর্শে নির্মিত—যেখানে অনেক জনগোষ্ঠীই উপেক্ষিত থেকেছে। বাঙালি জাতীয়তাবাদের নামে অবাঙালি সম্প্রদায়ের ওপর বৈষম্য আর ধর্মনিরপেক্ষতার নামে ধর্মীয় বিভাজন তৈরি করা হয়েছে। আমরা একটি সমন্বিত, অংশগ্রহণমূলক ও সম্মাননির্ভর নতুন সংবিধান চাই, যেখানে সব সম্প্রদায়ের অধিকার থাকবে সমানভাবে স্বীকৃত।”
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, “বাংলাদেশকে যেকোনো আধিপত্যবাদী শক্তির হাত থেকে রক্ষা করতে হলে কেবল সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নয়, রাজনৈতিক ঐক্যও প্রয়োজন। আমরা যারা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে—তাদের মধ্যে সৌহার্দ্য গড়ে তুলতে হবে। পুরোনো শত্রুতা ও বিভাজনের রাজনীতি ছেড়ে সবাইকে সামনে এগিয়ে আসতে হবে।”