বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাতে জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন থেকে ওয়াকআউটের পর সাংবাদিকদের কাছে এ অভিযোগ করেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, প্রশ্নোত্তর পর্বে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ ও শফিকুল ইসলাম মাসুদ গত ছয় মাসের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন করেন। পুলিশ সদর দপ্তরের পরিসংখ্যান তুলে ধরে আগের ছয় মাসের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা করা হয়। আইনশৃঙ্খলার উন্নতি হয়েছে কি না এবং এর ব্যর্থতার দায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নেবেন কি না, সেটিও জানতে চাওয়া হয়। এ প্রশ্নের পরই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিরোধীদলীয় নেতাদের কটূক্তি করেন বলে অভিযোগ তাঁর।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে সংশ্লিষ্ট শব্দ সংসদের কার্যপ্রণালি থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছিল বলেও জানান নাহিদ ইসলাম।
স্পিকারের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। নাহিদ ইসলাম বলেন, বিরোধীদলের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করা হয়েছে। এমনকি বিরোধীদল অসহিষ্ণু—এমন একটি ধারণা দেওয়ারও চেষ্টা করেছেন স্পিকার।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি শুধু বিরোধীদলের বক্তব্য নয় উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, পুলিশ সদর দপ্তরসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তথ্যেও এর প্রতিফলন রয়েছে। বিভিন্ন স্থানে হত্যা, ধর্ষণসহ নানা অপরাধের ঘটনা ঘটছে। সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
বিএনপি বিরোধীদলে থাকার সময় যে ধরনের আচরণ করেছিল, বর্তমান বিরোধীদল তেমন কিছু করেনি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, গত ছয় মাস সরকারকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হয়েছে। তবে জনগণের দুর্ভোগের কথা সংসদে তুলে ধরা বিরোধীদলের দায়িত্ব।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিলসহ কয়েকটি বিল নিয়েও আপত্তি জানান নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, গণভোটের রায়, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের অংশ হিসেবে এসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এখন সেগুলো আলাদাভাবে সংসদে এনে পাস করার প্রক্রিয়ায় তারা একমত নন।
এসব বিষয়ে আগে বিশেষ কমিটিতে আলোচনার কথা থাকলেও তা করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। এখন বিচ্ছিন্নভাবে বিলগুলো পাস করা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন।
নাহিদ ইসলামের অভিযোগ, সংসদে তারা ‘সংসদীয় স্বেচ্ছাচারিতা’ ও ‘সংসদীয় স্বৈরতন্ত্র’ দেখতে পাচ্ছেন। এ পরিস্থিতি থেকে বের হতে অবিলম্বে সংসদীয় সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি জানান তিনি। পাশাপাশি গণভোটের রায় ও বাতিল হওয়া গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।