বাংলাদেশ পুলিশ, সিআইডি, ঢাকার বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. ছুফি উল্লাহ স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলের আয়োজনে এবং বিকাশ লিমিটেডের পৃষ্ঠপোষকতায় অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে হলটির স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শ্রেণির ছাত্রীরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রোকেয়া হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. হোসনে আরা বেগম। প্রধান অতিথি ছিলেন সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি), সিআইডির ডিআইজি (ভারপ্রাপ্ত) মো. সাইফুদ্দিন শাহীন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাইবার ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড অপারেশনস, সিপিসি, সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি মো. জাহিদুল ইসলাম, বিপিএম-সেবা। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিকাশ লিমিটেডের এক্সটার্নাল অ্যাফেয়ার্স বিভাগের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধান এ কে এম মনিরুল করিম।
কর্মসূচিতে সাইবার হয়রানি, অনলাইন ব্ল্যাকমেইল, পরিচয় জালিয়াতি, ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার, ভুয়া লিংক ও অনলাইন প্রতারণাসহ বিভিন্ন সাইবার অপরাধের বিষয়ে আলোচনা করা হয়। বক্তারা বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব মাধ্যমের অপব্যবহারের ঝুঁকিও বাড়ছে। বিশেষ করে নারী ও তরুণদের ব্যক্তিগত তথ্য, ছবি ও পরিচয়কে কেন্দ্র করে হয়রানি ও প্রতারণার ঘটনা ঘটতে পারে। এ কারণে প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি সচেতন ও দায়িত্বশীল ডিজিটাল আচরণ গড়ে তোলা জরুরি।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. হোসনে আরা বেগম বলেন, শিক্ষার্থীরা যাতে সাইবার জগতে নিরাপদে চলাচল করতে পারে এবং কোনো ধরনের হয়রানির শিকার হলে নির্দ্বিধায় প্রতিবাদ ও অভিযোগ জানাতে পারে, সে জন্য হল প্রশাসন সবসময় তাদের পাশে থাকবে। তিনি এ ধরনের সচেতনতামূলক কর্মসূচি আয়োজনের জন্য সিআইডিকে ধন্যবাদ জানান এবং শিক্ষার্থীদের অর্জিত জ্ঞান পরিবার ও বন্ধুদের মধ্যেও ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. সাইফুদ্দিন শাহীন বলেন, বর্তমান প্রজন্ম একই সঙ্গে বাস্তব ও ডিজিটাল দুই জগতেই বসবাস করছে। প্রযুক্তির বিস্তারের ফলে নতুন সুযোগের পাশাপাশি নতুন ধরনের ঝুঁকি ও অপরাধও তৈরি হয়েছে। তাই প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি এর নিরাপদ ব্যবহার সম্পর্কেও সচেতন হওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, সচেতনতাই সাইবার নিরাপত্তার প্রথম ও প্রধান হাতিয়ার এবং সাইবার অপরাধ প্রতিরোধ ও দমনে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার সার্বক্ষণিক কাজ করছে।
তিনি শিক্ষার্থীদের শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার, ওটিপি ও পিন নম্বর গোপন রাখা, অপরিচিত লিংকে ক্লিক না করা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরিক্ত ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ না করা এবং তথ্য যাচাই ছাড়া কোনো কিছু শেয়ার না করার পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে অনলাইন বুলিং, সাইবার হয়রানি, ব্ল্যাকমেইল বা প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নেওয়ার আহ্বান জানান।
মূল প্রবন্ধে মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, শিক্ষা, যোগাযোগ, বিনোদন ও দৈনন্দিন কার্যক্রমের বড় একটি অংশ বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মনির্ভর। ফলে সাইবার নিরাপত্তা শুধু প্রযুক্তিবিদদের বিষয় নয়; এটি শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ প্রত্যেক নাগরিকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ জীবনদক্ষতায় পরিণত হয়েছে।
তিনি বলেন, সাইবার অপরাধীরা অনেক সময় প্রযুক্তির দুর্বলতার চেয়ে মানুষের অসতর্কতাকে বেশি কাজে লাগায়। ওটিপি শেয়ার করা, অপরিচিত লিংকে ক্লিক করা কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরিক্ত ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের কারণে একজন ব্যক্তি আর্থিক ও সামাজিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন। তাই সচেতনতা, আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং তথ্য যাচাইয়ের অভ্যাস সাইবার নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপতথ্য ও গুজব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই না করে তা শেয়ার না করা এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে দায়িত্বশীল আচরণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিজেদের পাশাপাশি পরিবার ও বন্ধুদেরও সাইবার ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন করার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এ কে এম মনিরুল করিম ডিজিটাল আর্থিক লেনদেনে সচেতনতার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ডিজিটাল আর্থিক সেবার প্রসারের সঙ্গে প্রতারণার নতুন নতুন কৌশলও দেখা দিচ্ছে। সচেতনতা ও সঠিক তথ্য জানার মাধ্যমে এসব প্রতারণার ঝুঁকি অনেকাংশে মোকাবিলা করা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে বক্তারা ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা, শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার, ওটিপি ও পিন নম্বর কারও সঙ্গে শেয়ার না করা, অপরিচিত লিংক ও সন্দেহজনক বার্তা এড়িয়ে চলা এবং অনলাইন পরিচয়ের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে সাইবার হয়রানি বা প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত সাইবার পুলিশ সেন্টার অথবা নিকটস্থ থানায় অভিযোগ জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত ছাত্রীরা সাইবার নিরাপত্তা, অনলাইন হয়রানি, ডিজিটাল প্রতারণা ও ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন। অতিথিরা এসব প্রশ্নের উত্তর দেন এবং নিরাপদ ডিজিটাল আচরণ সম্পর্কে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
‘Think Twice Before You Click; Cyber Knowledge is Your Best Firewall’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এ কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপদ, দায়িত্বশীল ও সচেতন ডিজিটাল আচরণ গড়ে উঠবে এবং তারা পরিবার ও সমাজের অন্যদেরও সাইবার ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন করতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন আয়োজকরা।