সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, পুলিশে এসপি ও ওসি পদে বদলি দেওয়ার ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই জরুরি। অতীতে লটারির মাধ্যমে যেসব বদলি হয়েছে, তা সঠিক পদ্ধতি ছিল না বলে তিনি মন্তব্য করেন। এখন থেকে যোগ্যতা ও প্রয়োজন বিবেচনায় পদায়ন করা হবে। আগের সরকারের আমলে পুলিশ নিয়োগে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। তবে তদন্তের নামে কাউকে অযথা হয়রানি করা হবে না বলেও আশ্বাস দেন তিনি। ২০০৬ সালে নিয়োগবঞ্চিত এসআইদের বিষয়টিও পুনর্বিবেচনার কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগের সরকারের সময়ে ইস্যু হওয়া অস্ত্রের লাইসেন্সগুলো যাচাই করা হবে। যারা আইনি যোগ্যতা পূরণ না করেই লাইসেন্স পেয়েছেন বা রাজনৈতিক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করেছেন, তাদের লাইসেন্স বাতিল করে অস্ত্র জব্দ করা হবে।
পুলিশের কার্যক্রমে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ বরদাশত করা হবে না—এ কথা স্পষ্ট করে দিয়ে মন্ত্রী বলেন, একই সঙ্গে পুলিশকেও জবাবদিহিতার মধ্যে থাকতে হবে। আইনের বাইরে কোনো বিশেষ প্রটোকল দেওয়া যাবে না।
তিনি আরও জানান, ৫ আগস্টের পর ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন ব্যক্তির বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া অভিযোগগুলো পর্যালোচনা করে যেগুলো হয়রানিমূলক প্রমাণিত হবে, সেগুলো প্রত্যাহার করা হবে। পাশাপাশি বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনা তদন্তে নতুন একটি কমিশন গঠনের কথাও জানান তিনি।
সামাজিক অস্থিরতা ও ‘মব কালচার’ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দাবি আদায়ের নামে রাস্তা অবরোধ বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি বরদাশত করা হবে না। যৌক্তিক দাবি থাকলে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। অন্যথায় সরকার কঠোর অবস্থানে যাবে।
এ ছাড়া পাসপোর্ট অফিস ও ভূমি সেবায় দুর্নীতি ও হয়রানি কমাতে বেসরকারি সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠান যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি। এতে সেবার গতি বাড়ার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।