তিনি জানান, চলতি বছরের এপ্রিল থেকে এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে উগ্রবাদী মতাদর্শ প্রচার, আইএস নেটওয়ার্কে সক্রিয় থাকা এবং সিরিয়া ও বাংলাদেশে অর্থ পাঠানোর মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ৫ জনকে সরাসরি সন্ত্রাসী সংগঠনের সদস্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আরও ১৫ জনকে নির্বাসনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, এবং বাকি ১৬ জন এখনো তদন্তাধীন রয়েছেন।
পুলিশের তদন্ত অনুযায়ী, এই নেটওয়ার্কে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ জন সক্রিয় সদস্য থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তারা মূলত টেলিগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপসহ বিভিন্ন মেসেজিং অ্যাপ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে উগ্রবাদ ছড়াতো। নেটওয়ার্কের সদস্যদের কাছ থেকে প্রতি বছর ৫০০ রিংগিত (প্রায় ১০,০০০ টাকা) করে চাঁদা আদায় হতো, যা আন্তর্জাতিক মানি ট্রান্সফার ও ই-ওয়ালেটের মাধ্যমে সিরিয়া ও বাংলাদেশে আইএস-এর সেলে পাঠানো হতো।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা মালয়েশিয়ায় নির্মাণ, কারখানা ও সেবা খাতে কাজ করতেন। মূলত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্য থেকেই নতুন সদস্য সংগ্রহ করা হতো বলে জানিয়েছে পুলিশ।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে কুয়ালালামপুরে আইএস-সম্পর্কিত একটি হামলার পর মালয়েশিয়া কড়া নজরদারির আওতায় সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে আসছে। সে সময় থেকেই শতাধিক সন্দেহভাজন জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ ধরনের গ্রেপ্তারের সংখ্যা কমে গেলেও নতুন করে এই নেটওয়ার্কের উন্মোচন পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
এদিকে, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না এলেও ধারণা করা হচ্ছে, কিছু গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে দেশে ফেরত পাঠানো হবে এবং যাদের বিরুদ্ধে শক্ত প্রমাণ আছে, তাদের মালয়েশিয়ার আইনে বিচার করা হবে। বিষয়টি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও গোয়েন্দা সংস্থার জন্যও গুরুত্বের দাবি রাখে।