শুক্রবার (২৯ মে) শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।
বাণীতে তিনি আশা প্রকাশ করেন, জিয়াউর রহমানের দেশপ্রেম, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা এবং স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার চিন্তা আগামী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
রাষ্ট্রপতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন, ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে এক ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে জিয়াউর রহমান নিহত হন। তিনি বলেন, মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের এই বীর সেনানায়ক, স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক ও দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তার অবদান জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।
তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নে জিয়াউর রহমান দেশবাসীকে পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছিলেন, যা মুক্তিযুদ্ধে জনগণকে সাহস ও প্রেরণা জুগিয়েছিল। বীরত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ‘বীর উত্তম’ খেতাবে ভূষিত হন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার পর জিয়াউর রহমান দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, বাক ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত এবং বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে কাজ করেন।
তিনি উল্লেখ করেন, দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়নে জিয়াউর রহমান বিভিন্ন কার্যকর কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন। তার ঘোষিত ১৯ দফা কর্মসূচি ছিল উৎপাদনমুখী ও আত্মনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার পরিকল্পনা।
বাণীতে রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষায় জিয়াউর রহমান ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করেছিলেন। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের শ্রমবাজার সম্প্রসারণেও তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
তিনি বলেন, অল্প সময় রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলেও জিয়াউর রহমান দেশপ্রেম, সততা, দায়িত্ববোধ ও দূরদর্শী নেতৃত্বের মাধ্যমে দেশের অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন, যা আজও উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।