সোমবার (১৬ মার্চ) অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা শহরে অনুষ্ঠিত গ্লোবাল ফ্রড সামিট ২০২৬-এর উচ্চপর্যায়ের গোলটেবিল বৈঠকে প্যানেলিস্ট হিসেবে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ আহ্বান জানান।
বৈশ্বিক প্রতারণা প্রতিরোধে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চারটি প্রস্তাব তুলে ধরেন। প্রতারণার নতুন প্রবণতা ও কৌশল শনাক্ত করতে বিস্তৃত গবেষণা জোরদার এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে কৌশলগত তথ্য বিনিময় বাড়ানোর ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।
আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সহযোগিতা প্ল্যাটফর্মগুলোকে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি, যাতে সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে দ্রুত প্রতারণা নেটওয়ার্ক চিহ্নিত করা যায়।
প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি বাড়াতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থা চালুর ওপরও জোর দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, যা জালিয়াতির ধরণ বিশ্লেষণ ও আগাম সতর্কতায় সহায়ক হবে।
একই সঙ্গে বিচারিক কাঠামো ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা বাড়িয়ে অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার তাগিদ দেন তিনি, যাতে প্রতারণার বিরুদ্ধে কার্যকর বার্তা যায়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, আর্থিক ও ডিজিটাল নিরাপত্তা সুরক্ষায় বাংলাদেশ ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। তবে অপরাধের বৈশ্বিক বিস্তৃতির কারণে আন্তঃসীমান্ত সহযোগিতা ছাড়া কার্যকর সমাধান সম্ভব নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বক্তব্যে দেশে ডিজিটাল স্ক্যাম, এমএলএমভিত্তিক পঞ্জি স্কিম এবং করপোরেট দুর্নীতির বাড়তে থাকা ঝুঁকির চিত্র তুলে ধরা হয়। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০০৬ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে এসব প্রতারণায় প্রায় ২১ হাজার কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে এমটিএফইসহ বিতর্কিত কয়েকটি ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের বিপুল অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।