স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ডেঙ্গু রোগীর মধ্যে অধিকাংশই রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের জেলা থেকে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চলমান বৃষ্টিপাত ও সঠিকভাবে জমে থাকা পানির নিষ্কাশন না হওয়ার কারণে এডিস মশার প্রজনন বাড়ছে, যার ফলে সংক্রমণ বাড়ছে।
সরকার ইতোমধ্যে নগরপালিকাগুলোকে নতুন করে সচেতনতা ও ওয়ার্ডভিত্তিক অভিযান জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছে। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রতিটি ওয়ার্ডে হটলাইন চালু রাখা হয়েছে এবং মশা নিধনের জন্য টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক ডা. নাজমুল ইসলাম বলেন, “আমরা এখনো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছি। তবে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা ছাড়া কোনো ব্যবস্থা সফল হবে না। বাড়ির আশপাশে জমে থাকা পানি পরিষ্কার রাখুন, ফুলদানি ও ডাবের খোসা নিয়মিত ফেলে দিন।”
চিকিৎসকরা পরামর্শ দিচ্ছেন, জ্বর, মাথাব্যথা ও শরীর ব্যথা দেখা দিলেই দেরি না করে হাসপাতালে গিয়ে পরীক্ষা করাতে। চিকিৎসায় দেরি হলে জটিলতা বাড়তে পারে, বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত সারা দেশে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৩ হাজার। তবে মৃত্যু ৫০-এর নিচেই সীমাবদ্ধ রয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় তুলনামূলকভাবে কম।
স্বাস্থ্যখাতে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই ধারা অব্যাহত রাখতে হলে শুধু সরকারের অভিযান নয়, নাগরিকদের নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্ব নিতে হবে।