শুক্রবার (৫ জুন) সকাল ১১টায় উপজেলার আলেকজান্ডার বাজারের একটি রেস্তোরাঁয় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তাঁর পক্ষে ছেলে মো. সুমন লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। সেখানে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, চরআলগী ইউনিয়নের রব রোড এলাকায় আমজাদীয়া জামে মসজিদের সামনে স্থানীয় আবদুল মালেকের কাছ থেকে ৬৫ শতক জমি ক্রয় করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা জামাল উদ্দিন। ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না থাকায় জনকল্যাণমূলক উদ্দেশ্যে সেখানে হেফজখানা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর মধ্যে ৪৬ শতক জমির নামজারি সম্পন্ন হয়েছে এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরে বৈধভাবে ভোগদখলে আছেন।
অবশিষ্ট ১৬ শতক জমি নিয়ে চরআলগী ইউনিয়ন পরিষদের দফাদার সোলাইমান ও আবদুর রশীদের সঙ্গে বিরোধ চলছে বলে জানানো হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই জমির মালিকানা দাবি করে তারা আদালতে মামলা দায়ের করে দলিল ও নামজারি কার্যক্রম আটকে দিয়েছে এবং সেখানে ঘর নির্মাণ করে জোরপূর্বক দখলে রেখেছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, গত ৩ জুন সকালে হেফজখানার জন্য নির্ধারিত জমিতে মাটি ভরাট করতে গেলে প্রতিপক্ষ বাধা দেয়। সে সময় তারা গাড়ির সামনে শুয়ে পড়ে কাজ বন্ধের চেষ্টা করে। এরপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ, মরিচের গুঁড়া ছিটানো এবং শ্রমিকদের ওপর হামলার অভিযোগ তোলা হয়। এতে হেলাল নামের এক পথচারীসহ কয়েকজন আহত হন, যিনি বর্তমানে রামগতি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।
বক্তব্যে আরও বলা হয়, বীর মুক্তিযোদ্ধা জামাল উদ্দিন কখনোই বলপ্রয়োগ বা অবৈধভাবে জমি দখলের চেষ্টা করেননি। বরং তাঁর নিজস্ব ৪৬ শতক জমিতে হেফজখানার জন্য মাটি ভরাট শুরু করার পর থেকেই বাধার মুখে পড়েন এবং একের পর এক মিথ্যা ও ভিত্তিহীন মামলা দিয়ে পরিবারকে হয়রানি করা হচ্ছে।
স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ ও সমঝোতার চেষ্টা হলেও কোনো সমাধান হয়নি বলে জানানো হয়। বরং প্রতিপক্ষের অনড় অবস্থানের কারণে বিরোধ জটিল আকার ধারণ করেছে। এ অবস্থায় তিনি মামলাগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত, দখল ও হয়রানি বন্ধ এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
অন্যদিকে অভিযুক্ত সোলাইমান দফাদার বলেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে নিজস্ব জমিতে বসবাস করে আসছেন। বরং হেফজখানার নামে তাদের জমি দখলের চেষ্টা চলছে। তিনি দাবি করেন, ঘটনার সময় তাদের ওপর হামলা ও বসতবাড়িতে ভাঙচুর করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় তারাও নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন।