১৯৩৬ সালের এই দিনে বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ি গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন জিয়াউর রহমান। তাঁর বাবা মনসুর রহমান ছিলেন কেন্দ্রীয় সরকারের উচ্চপদস্থ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এবং মা জাহানারা খাতুন গৃহিণী। পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন দ্বিতীয়। ছোটবেলা থেকেই শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব ও দেশপ্রেমের গুণে তিনি আলাদা করে নজর কাড়েন।
১৯৫৩ সালে পাকিস্তান সামরিক একাডেমিতে অফিসার ক্যাডেট হিসেবে তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়। সামরিক জীবনের নানা পর্যায়ে দক্ষতা ও সাহসিকতার পরিচয় দেন তিনি। ১৯৭০ সালে চট্টগ্রামে বদলি হওয়ার পর থেকেই তিনি মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন।
১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে জাতিকে প্রতিরোধে উদ্বুদ্ধ করেন জিয়াউর রহমান। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও নোয়াখালী অঞ্চলে পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক নেতৃত্ব দেন এবং ‘জেড ফোর্স’ গঠন ও পরিচালনা করেন।
স্বাধীনতার পর সেনাবাহিনীতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন শেষে ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে তিনি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেন। তাঁর নেতৃত্বে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনরুজ্জীবিত হয়, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা প্রসারিত হয় এবং স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী হয়। সার্ক গঠনের উদ্যোগেও তাঁর ভূমিকা স্মরণযোগ্য।
১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে একদল বিপথগামী সামরিক কর্মকর্তার হাতে শহীদ হন তিনি। তাঁর শাহাদাতে দেশজুড়ে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে এবং জানাজায় মানুষের বিপুল অংশগ্রহণ তাঁর জনপ্রিয়তার প্রমাণ দেয়।
দিবসটি উপলক্ষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক বাণীতে শহীদ জিয়াকে স্বপ্নদ্রষ্টা রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে উল্লেখ করে তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
জন্মদিন ঘিরে রাজধানীসহ সারা দেশে পতাকা উত্তোলন, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। আজ সকাল ১১টায় শেরেবাংলানগরে তাঁর কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করবেন দলের শীর্ষ নেতারা। আগামীকাল কাকরাইলে আলোচনা সভার কর্মসূচিও রয়েছে।