রোববার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল বিভাগের সহকারী কমিশনার (এসি) সাকিবুল আলম ভূঁইয়া এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, জাসদের নেতাদের কাছ থেকে নেতা-কর্মীদের তালিকাসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নেওয়া হয়েছে। সেগুলো যাচাই করে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ায় ২৪৯ জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি ২৯ জনের পরিচয় শনাক্ত হলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।
এর আগে শনিবার দুপুরের পর জাসদ কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে সেখানে থাকা লোকজনকে আটক করে পল্টন থানা পুলিশ। প্রিজন ভ্যানে করে একে একে তাদের থানায় নেওয়া হয়। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা সেখানে জড়ো হয়েছেন—এমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়েছিল বলে জানিয়েছিল পুলিশ।
ডিএমপির উপকমিশনার হারুন অর রশিদ বলেছিলেন, জাসদ ও আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গসংগঠনের সদস্যরা নাশকতা বা অন্য কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে সেখানে জড়ো হয়েছেন—এমন তথ্য পুলিশের কাছে ছিল। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে যায়। স্থানীয় ছাত্র-জনতাও পুলিশকে সহযোগিতা করেছে বলে জানান তিনি।
আটকদের মধ্যে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) একাংশের সাবেক সভাপতি ও সাংবাদিক নেতা আবু জাফর সূর্যও ছিলেন। প্রায় ১৫ ঘণ্টা পর রোববার ভোর ৫টার দিকে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
আবু জাফর সূর্য বলেন, একসময় তিনি জাসদের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে তিনি সক্রিয় নন। শনিবার জাসদের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি সভা থাকায় পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি পুরনো রাজনৈতিক সহযোদ্ধাদের সঙ্গে দেখা করতে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, সভা চলার সময় নিচতলার প্রধান ফটকে হট্টগোল ও স্লোগানের শব্দ শুনে নিচে নামেন। পুলিশকে নিজের সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পরও তাকে হাতকড়া পরিয়ে আটক করা হয়। পরিচয়পত্র দেখানোর পরও তা আমলে নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে কয়েক দফা জিজ্ঞাসাবাদের পর ভোর ৫টার দিকে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
পুলিশ ও যুবদলের স্থানীয় নেতা-কর্মীদের ভূমিকা নিয়েও অভিযোগ করেন আবু জাফর সূর্য। তিনি বলেন, শুরুতে পুলিশের আচরণ অনাকাঙ্ক্ষিত মনে হলেও পরে পরিস্থিতি বদলে যায়। যুবদলের স্থানীয় নেতা রবিউল ইসলাম নয়নের নেতৃত্বে সেখানে ‘মব’ তৈরি করে হামলা চালানো হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে যুবদল নেতা রবিউল ইসলাম নয়নের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।