রাজধানীর বনানীতে ডিএনসিসি’র নিয়ন্ত্রণাধীন সরকারি জমিতে নির্মিত “বনানী সুপার মার্কেট কাম হাউজিং” প্রকল্পকে ঘিরে অনিয়ম, প্রতারণা ও অর্থপাচারের অভিযোগে ইউনিক গ্রুপের কর্ণধার নূর আলী এবং তার নির্মাণ প্রতিষ্ঠান বোরাক রিয়েল এস্টেট প্রাইভেট লিমিটেডের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), ঢাকা-এর বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খানের স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, অনুমোদনবিহীনভাবে পরিচালিত ওই ভবনের হোটেল ব্যবসার মাধ্যমে প্রায় ১১৫ কোটি ৫৮ লাখ ২৪ হাজার ৭০৭ টাকা অবৈধভাবে অর্জন করা হয়। পরবর্তীতে সেই অর্থ বিভিন্নভাবে স্থানান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে মানিলন্ডারিং করা হয়েছে বলে তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় বনানী থানায় মামলা নং-১১ (তারিখ: ০৭/০৫/২০২৬ খ্রি.) রুজু করা হয়। মামলাটি মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন-২০১২ এর ৪(২) ও ৪(৪) ধারায় দায়ের করা হয়েছে।
তদন্তে জানা যায়, প্রকল্পে ১৪ তলা ভবন নির্মাণের অনুমোদন থাকলেও চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে বোরাক রিয়েল এস্টেট প্রাইভেট লিমিটেড কোনো বৈধ অনুমতি ছাড়াই ২৮ তলা ভবন নির্মাণ করে। পরবর্তীতে ওই ভবনে পাঁচ তারকা মানের হোটেল “শেরাটন” চালু করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রকল্প নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন না করেও এবং ডিএনসিসির প্রাপ্য অংশ পরিশোধ না করেই প্রভাব খাটিয়ে একাধিকবার চুক্তি পরিবর্তন করা হয়।
এছাড়া তদন্তে আরও উঠে এসেছে, ভবন নির্মাণে রাজউক এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় অনাপত্তিপত্র গ্রহণ করা হয়নি। ফলে ভবনের উচ্চতা নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করায় বিমান ওঠানামায় ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
সিআইডির প্রাথমিক অনুসন্ধান অনুযায়ী, উক্ত প্রকল্প থেকে অর্জিত অর্থ অবৈধভাবে আয়ের পাশাপাশি তা বিভিন্ন পর্যায়ে হস্তান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে পাচার করা হয়েছে। মামলাটির তদন্ত চলাকালে দখলকৃত সম্পদের প্রকৃত মূল্য নির্ধারণের পর মানিলন্ডারিংয়ের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বর্তমানে মামলাটির তদন্ত ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম বিভাগ পরিচালনা করছে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ সত্য উদঘাটন এবং জড়িতদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে সিআইডির অভিযান ও তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।