শনিবার (২২ আগস্ট) ইকোনমিক টাইমস ওয়ার্ল্ড লিডার্স ফোরামে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর দাবির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি সরাসরি ওই বিষয়ে মন্তব্য করতে চাননি। তবে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে কার্যকর সম্পর্কের জন্য উভয় পক্ষের স্বার্থ বিবেচনার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তিনি। খবর দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের।
জয়শঙ্কর বলেন, কোনো সম্পর্ক তখনই কার্যকর হয়, যখন তা দুই দেশের জন্যই ফলপ্রসূ হয়। প্রতিবেশী দেশগুলো সবসময় ভারতের স্বার্থ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবে, এমন প্রত্যাশা তাঁর নেই। একইভাবে বাংলাদেশের স্বার্থ ও অবস্থানকেও ভারতকে গুরুত্ব দিতে হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দুই দেশের স্বার্থ ও প্রত্যাশার মধ্যে সমন্বয় তৈরি হলে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ বাড়ে। তাঁর মতে, পারস্পরিক সম্মান ও সমঝোতার জায়গা তৈরি হওয়াই প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্ক টেকসই করার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। তিনি জানান, এই নীতি ভারতের সব প্রতিবেশী দেশের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের আগস্টে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এরপর শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তারেক রহমান বাংলাদেশের দায়িত্ব নেওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্ক কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার আভাস দেখা দিয়েছিল।
তবে গত ৫ আগস্ট নয়াদিল্লি থেকে অডিও লিংকের মাধ্যমে শেখ হাসিনা প্রকাশ্যে বক্তব্য দেওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্কে আবারও উত্তেজনা তৈরি হয়। ওই দিনটি ছিল তাঁর ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার দুই বছর পূর্তি। শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর দাবি দীর্ঘদিন ধরে জানিয়ে আসছে ঢাকা। বাংলাদেশে তাঁর বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায়ও রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তাঁর সফরের সম্ভাব্য সময় ও আয়োজন নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে।