নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েছেন আইসিসির প্রেসিডেন্ট তোমোকো আকানে এবং আদালতের জ্যেষ্ঠ ট্রায়াল আইনজীবী আবদুলায়ে সেয়ে। ট্রাম্প প্রশাসন আইসিসির কার্যক্রম সীমিত করতে যে ধারাবাহিক পদক্ষেপ নিচ্ছে, নতুন এই নিষেধাজ্ঞাকে তারই অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রুবিওর অভিযোগ, আকানে ও সেয়ে এমন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিচারিক পদক্ষেপ নেওয়ার আইসিসির উদ্যোগে জড়িত ছিলেন, যাদের বিচার করার ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট সরকার আদালতকে দেয়নি। তিনি আইসিসিকে ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ এবং ‘গুরুতর রাজনৈতিক প্রভাবাধীন’ প্রতিষ্ঠান হিসেবে আখ্যা দেন। মার্কিন সার্বভৌমত্বে আদালতের হস্তক্ষেপ ওয়াশিংটন কোনোভাবেই মেনে নেবে না বলেও জানান তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে আইসিসি। আদালত জানিয়েছে, তারা তাদের কর্মকর্তাদের প্রতি পূর্ণ সমর্থন অব্যাহত রাখবে। আইসিসির ভাষ্য, এ ধরনের ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক আইন ও আইনের শাসনের জন্য ক্ষতিকর।
ট্রাম্প প্রশাসন এর আগে আইসিসির আরও অন্তত ১১ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। তাদের মধ্যে নয়জন বিচারক এবং আদালতের প্রধান কৌঁসুলিও রয়েছেন। নিষেধাজ্ঞার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সম্পদ জব্দ, দেশটিতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা এবং মার্কিন কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের সেবা গ্রহণে বাধা রয়েছে।
আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাদের বিরুদ্ধে আইসিসির তদন্ত এবং গাজায় কথিত যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুসহ দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর আগের দফার নিষেধাজ্ঞাগুলো দেওয়া হয়েছিল।
নেতানিয়াহু তার বিরুদ্ধে ওঠা যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। একই সঙ্গে আইসিসিকে ইহুদিবিদ্বেষ দ্বারা প্রভাবিত বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আইসিসির সদস্যরাষ্ট্র নয়। তবে ২০১৫ সালে ফিলিস্তিন আইসিসির সদস্য হওয়ার পর ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে সংঘটিত কথিত আন্তর্জাতিক অপরাধ নিয়ে তদন্তের এখতিয়ার আদালটির সামনে আসে।
আইসিসির সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরোধ অবশ্য তার প্রথম মেয়াদ থেকেই। তখনও তিনি আদালটিকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। ট্রাম্পের সেই সময়ের অবস্থান ছিল, মার্কিন নাগরিকদের ক্ষেত্রে আইসিসির কোনো ‘এখতিয়ার, বৈধতা বা কর্তৃত্ব’ নেই।
সূত্র: বিবিসি।