বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) পশ্চিমবঙ্গের বারাসাতে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এসব কথা বলেন শ্রিংলা।
শেখ হাসিনা ইস্যুতে ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্কে অবনতি হবে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভারত দুই দেশের মানুষের মধ্যে ভালো সম্পর্ক চায়। গত কয়েক বছরে দুই দেশ একসঙ্গে অনেক কাজ করেছে, ভবিষ্যতেও আরও কাজ করার সুযোগ রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারত সরকার আমন্ত্রণ জানিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শেখ হাসিনার বিষয়টি দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনো ইস্যু হওয়া উচিত নয়।
আসন্ন ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশ ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে শ্রিংলা বলেন, প্রতিবেশী ও ঘনিষ্ঠ অংশীদার দেশগুলোকে বিভিন্ন আয়োজনে আমন্ত্রণ জানানো ভারতের ধারাবাহিক নীতি। জি-২০ সম্মেলনেও বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল, এবার ব্রিকস সম্মেলনেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
তবে সম্মেলনে যোগ দেওয়া না-দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের। তিনি বলেন, ব্রিকসের মতো আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সুযোগ থাকে। এমন একটি মঞ্চে বাংলাদেশের মতামত তুলে ধরা গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশকে ব্রিকসে অংশ নিতে দেখতে চায় ভারত, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বাংলাদেশেরই।
জামায়াতে ইসলামীর ভারতবিরোধী রাজনীতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে শ্রিংলা বলেন, ভারতবিরোধী প্রচার ও জনমত তৈরিতে জামায়াতের ঐতিহাসিক ভূমিকা রয়েছে। দলটি বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে ভারতকে ‘বাংলাদেশবিরোধী’ দেশ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে।
ভারত বাংলাদেশের ভালো চায় না—এমন ধারণা ঠিক নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। দুই দেশের সম্পর্ক অনেক পুরোনো উল্লেখ করে শ্রিংলা বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পেছনে ভারতেরও অবদান রয়েছে। দুই দেশের উচিত একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়া এবং মানুষের উন্নয়নে কাজ করা।
বিএনপি সরকারের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক নিয়ে তিনি বলেন, বিএনপি এখন সরকারে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একটি গণতান্ত্রিক নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার পরিচালনা করছেন। তাই বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের সঙ্গে ভারতের কাজ করা স্বাভাবিক। দুই দেশের সম্পর্ক আরও ভালো করা প্রয়োজন এবং সেটি হবে।