শনিবার (২ মে) রাজধানীর শের-ই বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ফখরুলের মতে, দীর্ঘদিন ধরে দেশে এমন একটি সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে যেখানে তদবির ছাড়া কাজ এগোনো কঠিন হয়ে পড়েছে।
তিনি আরও বলেন, মেধা ও যোগ্যতার বদলে প্রভাব-প্রতিপত্তি দিয়ে পদ লাভের প্রবণতা বেড়েছে। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোর ক্ষেত্রেও তদবিরের সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, যা সামগ্রিকভাবে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোকে দুর্বল করেছে।
জুলাই সনদ ও সংবিধান নিয়ে চলমান বিতর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আলোচনা-সমালোচনা থাকা ভালো, তবে তা যেন রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার না হয়। কিছু বিষয়ে মতানৈক্য থাকলেও তা গঠনমূলক প্রক্রিয়ার অংশ বলেই উল্লেখ করেন তিনি।
সংবিধান সংস্কার ও উচ্চকক্ষ গঠনের কিছু প্রস্তাবে বিএনপির আপত্তির কথাও তুলে ধরেন তিনি। তার অভিযোগ, সব পক্ষের মতামত উপেক্ষা করে কিছু বিষয় চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিএনপিকে সংস্কারবিরোধী হিসেবে উপস্থাপনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, দলটি বরাবরই সংস্কারের পক্ষে। তবে বিভ্রান্তিকর প্রচারণার মাধ্যমে জনমনে ভুল ধারণা তৈরির চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে কিছু রাজনৈতিক শক্তির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
বর্তমান পরিস্থিতিতে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করা সবচেয়ে জরুরি বলে মন্তব্য করেন ফখরুল। তার মতে, অতীত সরকারের রেখে যাওয়া বিপুল ঋণের চাপ সামাল দিতে জাতীয় ঐক্যের বিকল্প নেই। পাশাপাশি বিদ্যমান অর্থনৈতিক কাঠামো সংস্কার করে নতুনভাবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
দলের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়েও সতর্কতা দেন তিনি। বিএনপির নামে নতুন কোনো সহযোগী সংগঠন গড়ে তোলার প্রয়োজন নেই উল্লেখ করে বলেন, দলীয় পরিচয়ে ব্যক্তিস্বার্থে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হলে তা বরদাশত করা হবে না।