ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন (ইসি) চায়, ভোটে অনিয়ম হলে যেন পুরো আসনের ভোট বাতিলের ক্ষমতা তাদের হাতে আবার ফিরে আসে। আগারগাঁওয়ে অনুষ্ঠিত অষ্টম কমিশন সভা শেষে কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বৃহস্পতিবার এ কথা জানান।
তিনি বলেন, আগে পুরো আসনের নির্বাচন বাতিল করার ক্ষমতা কমিশনের হাতে ছিল, যা ২০২৩ সালে আরপিও সংশোধনের মাধ্যমে সীমিত করা হয়। এখন শুধু নির্দিষ্ট কেন্দ্রের ভোট বাতিলের ক্ষমতা রয়েছে।
সানাউল্লাহ আরও জানান, নির্বাচন ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে কমিশন আরপিও, হলফনামা, ভোটার তালিকা হালনাগাদ, আসন সীমানা পুনর্নির্ধারণসহ বিভিন্ন বিষয়ে সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে।
প্রার্থী মনোনয়নের সময় হলফনামায় আজীবনের ফৌজদারি রেকর্ড যুক্ত করার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।
চলতি বছর ২০ জানুয়ারি থেকে ভোটার তালিকা হালনাগাদের মাধ্যমে নতুন ৪৪ লাখের বেশি ভোটার যুক্ত হয়েছেন এবং ২১ লাখের বেশি মৃত ভোটার বাদ পড়েছেন। আগামী সপ্তাহে খসড়া তালিকা প্রকাশ করা হবে।
আসন সীমানা পুনর্নির্ধারণেও অগ্রগতি হয়েছে বলে জানানো হয়। ৩০০ আসনের মধ্যে ২২১টিতে কোনো আপত্তি আসেনি।
প্রবাসীদের জন্য ডাকযোগে ভোটের ব্যবস্থা নিতে ৪৮ কোটি টাকার একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। অনলাইনে আবেদন, ব্যালট পাঠানো এবং ভোট গ্রহণে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এছাড়া ইভিএম ব্যবহারের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ঐকমত্য না থাকায় তা পুরোপুরি বন্ধের সিদ্ধান্ত হয়েছে। কমিশন বলছে, এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক কমিটিও গঠন করা হবে।
‘শাপলা’ প্রতীক বাদ দিয়ে ১১৫টি নতুন প্রতীকের তালিকা আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে মোট প্রতীকের সংখ্যা দাঁড়াবে ৬৯ থেকে বেড়ে ১১৫টি।