গতকাল (১৩ অক্টোবর) সোমবার বিকেলে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে এক সমাবেশে এ ঘোষণা দেন এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সদস্যসচিব অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজী। তিনি বলেন, “আজ রাতের মধ্যেই যদি সরকারের পক্ষ থেকে কোনো প্রজ্ঞাপন বা ঘোষণা না আসে, তাহলে আমরা সচিবালয় অভিমুখে লংমার্চ করব। আন্দোলন চলবে যতদিন পর্যন্ত দাবিগুলো পূরণ না হয়।”
তিনি অভিযোগ করে বলেন, “রবিবার আমাদের পাঁচজন সহযোদ্ধাকে পিটিয়ে আহত করা হয়েছে। শিক্ষকদের ওপর এ ধরনের হামলা লজ্জাজনক এবং অগ্রহণযোগ্য। আমরা কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছি, তাই সবাইকে শহিদ মিনারে এসে যোগ দিতে আহ্বান জানাচ্ছি।”
শিক্ষক-কর্মচারীদের আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছে নাগরিক ঐক্য, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস ও ইনকিলাব মঞ্চ।
নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, “শিক্ষক কেন, একজন সাধারণ মানুষকেও রাস্তার মধ্যে পেটানো মানবিকতার পরিপন্থী। এ ধরনের দমননীতি দেশের জন্য কলঙ্ক।”
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মুজিবুর রহমান বলেন, “শিক্ষকদের ন্যায্য আন্দোলন ঘিরে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তার দায় সরকারকেই নিতে হবে।”
ইসলামী আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন বলেন, “আমাদের পূর্ণ সমর্থন শিক্ষকদের সঙ্গে আছে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা ঘরে ফিরবেন না।”
এছাড়া খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন বলেন, “জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান শিক্ষকদের ওপর লাঠিপেটা অত্যন্ত লজ্জাজনক।”
রবিবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে তিন দফা দাবিতে শিক্ষকরা মহাসমাবেশ করেন। একপর্যায়ে পুলিশ লাঠিচার্জ, সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পরে শিক্ষকরা কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে অবস্থান নেন এবং সন্ধ্যা পর্যন্ত সরকারকে আলটিমেটাম দেন।
সরকারি সাড়া না পেয়ে সোমবার থেকে সব এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন শুরু করেছেন শিক্ষকরা।
এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বাড়িভাতা বৃদ্ধির বিষয়ে সরকার ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে এবং বিষয়টি দ্রুত সমাধানের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, শিক্ষক-কর্মচারীদের তিন দফা দাবির মধ্যে মূল দাবি হলো ২০ শতাংশ হারে বাড়িভাতা বৃদ্ধি, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জাতীয়করণ, এবং দীর্ঘদিনের বেতন কাঠামো সংস্কার।