পরিবারের দাবি, অভিযোগ ভিত্তিহীন—ইমরান কখনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল না। তবে পুলিশ বলছে, গ্রেপ্তার হওয়া কয়েকজন ছাত্রলীগ কর্মীর স্বীকারোক্তির ভিত্তিতেই তাকে আটক করা হয়েছে। ইমরান চিওড়া গ্রামের ডেকোরেটর ব্যবসায়ী ইসহাক মিয়ার ছেলে। ইসহাক জানান, তিনি নিজেও কোনো রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন। সোমবার রাত তিনটায় পুলিশ বাড়ি থেকে ইমরানকে তুলে নিয়ে যায় এবং পরদিন সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখায়। ছেলের পরীক্ষার প্রবেশপত্র নিয়ে থানায় গেলেও কোনো ফল হয়নি।
ইসহাক মিয়ার অভিযোগ, ‘আমার ছেলেকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। কোনো প্রমাণ ছাড়া গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। ওর পরীক্ষার ভবিষ্যৎ নষ্ট হয়ে গেল।’
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বেলাল হোসেন মজুমদার বলেন, ইমরান নিয়মিত শিক্ষার্থী, তার রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কোনো তথ্য বিদ্যালয়ের কাছে নেই।
জানা যায়, মঙ্গলবার নাঙ্গলকোট থানায় ২৫ জনের নামসহ অজ্ঞাত ৫০–৬০ জনকে আসামি করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন উপপরিদর্শক আলমগীর। সেখানে ইমরানকে ৬ নম্বর আসামি করে ‘ছাত্রলীগ কর্মী’ উল্লেখ করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, ঢালুয়া ইউনিয়নের চিলপাড়া–উরকুটি রাস্তায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ, যুবলীগ, আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যরা সরকারবিরোধী স্লোগান দিয়ে মশাল ও ঝটিকা মিছিল করে। গ্রেপ্তার হওয়া একজনের জিজ্ঞাসাবাদে অন্যদের নাম পাওয়া গেছে।
স্কুলছাত্র ইমরানের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার প্রমাণ আছে কি না জানতে চাইলে থানার ওসি এ কে ফজলুল হক বলেন, ‘ছবিসহ সরাসরি প্রমাণ নেই। তবে গ্রেপ্তার পাঁচজনের তথ্যে তার পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে। আমরা নিয়ম মেনে তাকে আদালতে পাঠিয়েছি।’ পরিবারের অভিযোগ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সবকিছু তদন্তে স্পষ্ট হবে।’