বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের পথে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপে প্রবেশ করল। পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে আজ মঙ্গলবার থেকে ইউরেনিয়াম জ্বালানি প্রবেশ করানো শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে বিশ্বে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারকারী দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান সুসংহত হলো।
জ্বালানি সংযোজন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে প্রায় ৩০ দিন সময় লাগবে। এরপর বিকিরণ ও বিভিন্ন কারিগরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ করতে আরও ৩৪ দিন প্রয়োজন হবে। সব ধাপ সফলভাবে শেষ হলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে জাতীয় গ্রিডে পূর্ণমাত্রায় বিদ্যুৎ সরবরাহ পেতে প্রায় ১০ মাস সময় লাগতে পারে।
চুল্লিতে জ্বালানি প্রবেশের পর তাপ উৎপন্ন হবে, সেই তাপে পানি বাষ্পে রূপান্তরিত হয়ে টারবাইন ঘুরাবে এবং সেখান থেকেই বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে। প্রাথমিকভাবে ধাপে ধাপে পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু হবে, আর আগামী আগস্টের মধ্যে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এই কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞানবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এবং রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থা রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভ উপস্থিত থাকবেন। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রসি ভার্চ্যুয়ালি অনুষ্ঠানে যুক্ত হবেন।
দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় একক অবকাঠামো প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন। প্রকল্পের আওতায় ১২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট নির্মাণ করছে রাশিয়ার অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্ট।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদে কম খরচে বিদ্যুৎ উৎপাদনে পারমাণবিক শক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এটি দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ১০ থেকে ১২ শতাংশ পূরণ করতে সক্ষম হবে এবং একই সঙ্গে দক্ষ জনবল তৈরিতেও বড় ভূমিকা রাখছে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে রাশিয়া থেকে প্রথম দফায় পারমাণবিক জ্বালানি দেশে আসে। পরে ধাপে ধাপে আরও চালান এনে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে রূপপুরে সংরক্ষণ করা হয়। সেই জ্বালানি দিয়েই আজ থেকে শুরু হলো বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি।