আজ সোমবার (২১ জুলাই) রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার প্রেক্ষিতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এক ভিডিও বার্তায় তিনি তাঁর আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় বলেন,
“মা-বাপদের আমরা কী জবাব দেব? কী বলবো তাদেরকে? আমরা নিজেদেরকেই তো জবাব দিতে পারছি না।”
দুর্ঘটনায় নিহত শিশুদের স্মরণে তিনি আরও বলেন,
“অজানা শিশুদের মুখ সবার চোখে ভেসে উঠছে। সারা জাতি হতবম্ভ, বাকরুদ্ধ। শোকাহত বললে খুব কম বলা হবে। এই দুর্ঘটনার রেশ এখনও কাটেনি। এখনও লাশ আসছে হাসপাতালে, এখনও হাসপাতালে মারা যাচ্ছে। মা-বাপ এখনও খোঁজ নিচ্ছে, আমার সন্তান কোথায়? তাকে আর কোনোদিন চেনা যাবে কি না?”
প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে শিশুদের মৃত্যুর বিষয়ে তিনি বলেন,
“মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের যে দুর্ঘটনা—প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে এই কচি শিশুদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল, আগুনে পুড়ে মরল! মা-বাপদের আমরা কী জবাব দেব? কী বলবো তাদেরকে? আমরা নিজেদেরকেই তো জবাব দিতে পারছি না।”
দেশবাসীর মনের অবস্থার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন,
“আমার বলার কোনো ভাষা নেই। কিভাবে শুরু করবো, সেটাও বুঝতে পারছি না। আমার মতোই সারাদেশের লোক হতবাক। এরকম একটা কাণ্ড হতে পারে, আমরা কেউ কল্পনাও করিনি। কারোর ধারণার মধ্যে ছিল না। কিন্তু এই অবিশ্বাস্য জিনিস আমাদের হঠাৎ করে গ্রহণ করতে হয়েছে।”
চিকিৎসা ও সহায়তা বিষয়ে ড. ইউনূস বলেন,
“আমরা অবশ্যই তদন্ত করবো। কিন্তু তদন্ত করলেই তো আর তারা ফিরে আসবে না। আমরা চিকিৎসার ব্যবস্থা করছি, সবাই ঝাঁপিয়ে পড়েছে। সকল হাসপাতাল, সকল মানুষ ছুটে আসছে। আমরা সবার কাছে অনুরোধ করছি, হাসপাতালে ভিড় করবেন না। কারণ, যারা আহত, তাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধের শক্তি নেই। আমাদের ভিড়ে থাকা মানে আমাদের শরীর থেকে যদি কিছু রোগ তাদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে—এটা বলা মুশকিল। কাজেই দূরে থেকেই সবাই দোয়া করুন।”
শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সহানুভূতি জানিয়ে তিনি বলেন,
“আমরা বাবা-মা, আত্মীয়-স্বজন সবার কাছে আমাদের সহানুভূতি জানাচ্ছি। বাংলাদেশের যত সন্তান আছে, সবাই আপনাদের সন্তান। সবাই নিজেদের মনকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করুন। আমরা সবাই নিজেদের মন সান্ত্বনা দিচ্ছি, কিন্তু আপনাদের সান্ত্বনা—এটা বিরাট ব্যাপার। আমরা সবাই আপনাদের সঙ্গে আছি, জাতির সমস্ত লোক আপনাদের সঙ্গে আছে।”