শুক্রবার (৩১ জুলাই) দুপুরে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় ‘দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে পদযাত্রা ও সমাবেশে অংশ নেওয়ার আগে সিলেট সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
হবিগঞ্জে ছাত্রদলের এক নেতার দায়ের করা মামলায় নিজের, সারজিস আলমসহ এনসিপির কয়েকজন নেতার নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, তারা স্বাভাবিক রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করছেন। তিনি বলেন, ‘জেলে নিয়ে গেলে যাব, আর মেরে ফেললে কবরে চলে যাব, কিন্তু মামলা দিয়ে আমাদের দমিয়ে রাখা যাবে না।’
মামলাটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে তিনি বলেন, এতে হামলা, হয়রানি ও ছিনতাইয়ের মতো অভিযোগ আনা হলেও এসবের কোনো ভিত্তি নেই। মামলার বিবরণে এমন অনেক বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে, যা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং দেশবাসীও এ বিষয়ে অবগত।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশেই এসব মামলা করা হচ্ছে। তার ভাষ্য, একটি গোষ্ঠী মামলা, টেন্ডারবাজি, দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের রাজনীতি করছে, তবে একসময় এসবেরও অবসান ঘটবে।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে ‘গ্যাংবাজির সংস্কৃতি’ তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার দাবি, রাজনীতির আড়ালে গ্যাংভিত্তিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে। যারা এমন কর্মকাণ্ডে জড়িত, তারা রাজনীতির পরিচয় ব্যবহার না করে সরাসরি নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করুক।
মোবাইল ছিনতাইয়ের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অভিযোগে আইফোন ছিনতাইয়ের কথা বলা হয়েছে। তিনি প্রশ্ন রাখেন, সেটি কার আইফোন ছিল এবং এ ধরনের অভিযোগ কতটা সত্য। তার মতে, এমন ভিত্তিহীন অভিযোগ অত্যন্ত দুঃখজনক।
এনসিপির এই নেতা আরও অভিযোগ করেন, দেশে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তার দাবি, একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করছে, যার তীব্র নিন্দা জানান তিনি।
পাল্টা মামলা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, প্রথমে তাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা হয়েছে। সেই ঘটনার পর এনসিপি আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে মামলা করেছে। এরপর তাদের বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা পাল্টা মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, ‘মানুষ হিসেবে আমাদেরও ভয় আছে। কিন্তু সেই ভয়কে জয় করেই আমরা রাজনীতি করছি। মামলা বা হামলা চালিয়ে আমাদের আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না।’
উল্লেখ্য, হবিগঞ্জে এনসিপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় দলটির পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের পর নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সারজিস আলমসহ ৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৫০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে থানায় পাল্টা অভিযোগ দায়ের করা হয়।