বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে আবেদন করার বিষয়টি প্রকাশ করেন ব্যারিস্টার এম সরোয়ার। একই সঙ্গে দুদকের চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং প্রার্থীদের পরিচয় জনসম্মুখে প্রকাশের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক দেশে গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে নিয়োগের আগে যোগ্য প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হয়। এতে জনমত, বিতর্ক এবং প্রার্থীদের সততা, দক্ষতা ও অতীত কর্মকাণ্ড যাচাইয়ের সুযোগ সৃষ্টি হয়। তার মতে, এ ধরনের নিয়োগ কোনো গোপন প্রক্রিয়ায় নয়, বরং স্বচ্ছ, পেশাদার ও যোগ্যতার ভিত্তিতে হওয়া উচিত।
তিনি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত দুদকের চেয়ারম্যান ও কমিশনার পদে কারা আবেদন করেছেন, তাদের যোগ্যতা, সততা ও নৈতিক অবস্থান কী, সে বিষয়ে জনগণকে কিছুই জানানো হয়নি। অথচ এসব তথ্য জানার অধিকার জনগণের রয়েছে।
নিজের আবেদন প্রসঙ্গে ব্যারিস্টার সরোয়ার বলেন, প্রয়োজনীয় যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও তিনি এই পদে নিয়োগ পাবেন বলে আশা করছেন না, কারণ তিনি কোনো ধরনের তদবির বা লবিং করবেন না।
তিনি আরও বলেন, যাকেই দুদকের চেয়ারম্যান বা কমিশনার করা হোক না কেন, নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়া জনগণের সামনে স্বচ্ছভাবে উপস্থাপন করা উচিত। তার প্রত্যাশা, দায়িত্বপ্রাপ্তরা যেন সততা, দক্ষতা ও সাহসিকতায় অন্যদের চেয়ে এগিয়ে থাকেন এবং দুদক যেন স্বাধীন ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করে।
চেয়ারম্যান পদে আবেদন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগ্রহী প্রার্থীদের আবেদনপত্র ও জীবনবৃত্তান্ত গ্রহণের পাশাপাশি সুপারিশপ্রাপ্তদের পরিচয় প্রকাশ করলে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়বে। এতে নিয়োগের আগে জনমত মূল্যায়নের সুযোগও তৈরি হবে।
দেশে দুর্নীতি দমনে সৎ, দক্ষ ও যোগ্য নেতৃত্বের বিকল্প নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, তার চেয়ে যোগ্য কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হলেও দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রমে তিনি আগের মতোই সহযোগিতা করে যাবেন।
জীবনবৃত্তান্তে ব্যারিস্টার এম সরোয়ার উল্লেখ করেন, গত এক দশকে ব্যক্তিগত উদ্যোগে দুর্নীতির বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। এ সময় তিনি দুদকে অন্তত ৬৪টি আবেদন জমা দিয়েছেন। এছাড়া জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সেমিনারে অংশগ্রহণ, দেশের প্রতিনিধিত্ব করে প্রবন্ধ উপস্থাপন, শীর্ষস্থানীয় জাতীয় দৈনিকে অসংখ্য নিবন্ধ প্রকাশ এবং বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন টেলিভিশনের টকশোতে অংশ নেওয়ার তথ্যও তুলে ধরেন।
ব্যারিস্টার এম সরোয়ার ১৯৮৮ সালের ২৪ জুন বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি থেকে পদাতিক রেজিমেন্টে কমিশন লাভ করেন। প্রায় ২০ বছর সেনাবাহিনীর বিভিন্ন স্টাফ ও কমান্ড পদে দায়িত্ব পালন করেন। পার্বত্য চট্টগ্রামে বিদ্রোহ দমন অভিযান এবং জাতিসংঘের ইরাক-কুয়েত পর্যবেক্ষণ মিশনে শান্তিরক্ষী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৭ সালে শারীরিক অসুস্থতার কারণে মেজর পদমর্যাদায় অবসর গ্রহণ করেন।
পিরোজপুরে জন্ম নেওয়া এম সরোয়ার ১৯৮২ সালে এসএসসি এবং এইচএসসিতে যশোর শিক্ষা বোর্ডের মেধাতালিকায় ষষ্ঠ স্থান অর্জন করেন। পরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে স্নাতকোত্তর, লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি (অনার্স) এবং সিটি ইউনিভার্সিটি লন্ডন থেকে পিজিডিএল সম্পন্ন করেন।
২০০৯ সালে লিংকনস ইন থেকে 'কল টু দ্য বার' লাভ করেন। বর্তমানে তিনি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আইনজীবী হিসেবে প্র্যাকটিসের পাশাপাশি দুদকের প্যানেল আইনজীবীর দায়িত্ব পালন করছেন।