বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) পুলিশ সদর দপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। বিভিন্ন গণমাধ্যমে শিশু নিখোঁজের সংখ্যা নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ সদর দপ্তর এ তথ্য প্রকাশ করে।
পুলিশ বলছে, শুধু নিখোঁজ শিশুর মোট সংখ্যা তুলে ধরলে পরিস্থিতির পূর্ণ চিত্র পাওয়া যায় না। কারণ, নিখোঁজ হওয়া শিশুদের বড় একটি অংশ পরবর্তীতে উদ্ধার হয়ে পরিবারের কাছে ফিরে গেছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত স্থানীয় পর্যায়ে থানাগুলোর মাধ্যমে তথ্য যাচাই করে দেখা গেছে, শূন্য থেকে ৯ বছর বয়সী ৪৭৪ শিশুকে নিয়ে নিখোঁজ সংক্রান্ত জিডি হয়েছে। এর মধ্যে ৪০৬ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও ৬৮ শিশুর সন্ধান মেলেনি।
একই সময়ে ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী ১৫ হাজার ২৪৩ শিশু ও কিশোর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় জিডি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৩ হাজার ২৭৩ জনকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। বাকি ১ হাজার ৯৭০ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছে।
দুই বয়সসীমা মিলিয়ে সাত মাসে নিখোঁজ হওয়া ১৫ হাজার ৭১৭ শিশুর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছে ২ হাজার ৩৮ জন, যা মোট সংখ্যার প্রায় ১৩ শতাংশ।
পুলিশ জানিয়েছে, কম বয়সী অর্থাৎ শূন্য থেকে ৯ বছর বয়সী শিশুরা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অপরিচিত জায়গায় গিয়ে পথ হারিয়ে ফেলা, নিজের নাম-ঠিকানা বলতে না পারা কিংবা একা বাড়ি ফেরার সময় ভুল পথে চলে যাওয়ার মতো কারণে নিখোঁজ হয়।
অন্যদিকে ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার পেছনে নানা সামাজিক ও পারিবারিক কারণ রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এর মধ্যে অভিমান, পড়াশোনার চাপ, পারিবারিক বিরোধ, বন্ধু বা সহপাঠীদের প্রভাব এবং স্বাধীনভাবে জীবনযাপনের আকাঙ্ক্ষার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার পর লজ্জা বা ভয়ের কারণে আত্মগোপন করা কিংবা পরিবারের কাছ থেকে অর্থ বা অন্য কোনো সুবিধা আদায়ের উদ্দেশ্যেও কেউ কেউ বাড়ি ছেড়ে চলে যায় বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, অনলাইন জিডি ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর নিখোঁজ সংক্রান্ত অভিযোগ নথিভুক্ত করা আগের চেয়ে সহজ হয়েছে। ফলে এ ধরনের জিডির সংখ্যা বেড়েছে এবং অনেক ঘটনা এখন সহজেই পুলিশের নথিতে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে।
পূর্ববর্তী বছরগুলোর পরিসংখ্যানও তুলে ধরা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে। ২০২৩ সালে দেশে নিখোঁজ সংক্রান্ত ১৭ হাজার ৮০৮টি জিডি করা হয়। ২০২৪ সালে এ সংখ্যা ছিল ১৬ হাজার ৪১৪টি এবং ২০২৫ সালে ২২ হাজার ৫৫০টি।
পুলিশ সদর দপ্তরের মতে, শিশু নিখোঁজের তথ্য প্রকাশের সময় কতজনকে উদ্ধার করা হয়েছে, সেই সংখ্যাটিও সমান গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরা প্রয়োজন। শুধু নিখোঁজের সংখ্যা উল্লেখ করলে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে এবং পরিস্থিতি সম্পর্কে ভুল ধারণা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।