শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এ অবস্থান জানান মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল।
সংবাদ ব্রিফিংয়ে ভারতের বার্তা সংস্থা এএনআইয়ের এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, চুক্তি পর্যালোচনার বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো ভারতের নজরে এসেছে। তবে ঢাকার পক্ষ থেকে এখনো এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ বা চিঠি পাওয়া যায়নি।
তিনি বলেন, গণমাধ্যমে এ সংক্রান্ত কিছু প্রতিবেদন ভারতও দেখেছে। কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের কাছে কোনো তথ্য জানানো হয়নি। এ অবস্থায় ভারতের জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনামলে ভারতের সঙ্গে করা অন্তত ১০১টি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) যাচাই করছে বর্তমান প্রশাসন।
বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ-বাধ্যতামূলক সমঝোতা স্মারক এবং অবকাঠামো প্রকল্পের বিভিন্ন শর্ত বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা খতিয়ে দেখাই এই পর্যালোচনার উদ্দেশ্য। তবে সব চুক্তি একসঙ্গে বাতিলের কোনো সিদ্ধান্ত নেই। প্রতিটি চুক্তি ও প্রকল্প পৃথকভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে করা এসব চুক্তির কয়েকটির আওতায় ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় স্থলবেষ্টিত রাজ্যগুলোতে পণ্য পরিবহনের জন্য চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহারের সুবিধা দেওয়া হয়েছিল।
এখন ট্রানজিট ফি ও পণ্য পরিবহনের বিভিন্ন রুটে পাওয়া সুবিধাগুলোও পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, আগের চুক্তিগুলোর কিছু শর্ত দেশের স্বার্থের সঙ্গে যথেষ্ট ভারসাম্যপূর্ণ ছিল না।
তবে এসব সুবিধা পুরোপুরি বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে ধারণা করা হচ্ছে, কারণ এর মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজস্ব আয়ের সুযোগ রয়েছে। তবে ট্রানজিট ফি ও সংশ্লিষ্ট খরচের কাঠামো পরিবর্তন করা হলে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ‘সেভেন সিস্টার্স’ রাজ্যগুলোতে পণ্য পরিবহনের ব্যয় বাড়তে পারে।