শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাতে বরিশাল নগরীর প্যারারা রোডে দৈনিক সমকালের কার্যালয় থেকে পুলক চ্যাটার্জির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মৃত্যুর আগে লেখা চিরকুটগুলোতে স্ত্রী, সন্তান, ভাই ও সহকর্মীদের উদ্দেশে বিভিন্ন কথা লিখে গেছেন তিনি। এর মধ্যে সমকালের বরিশাল অফিসের বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংবাদিক সুমন চৌধুরীকে লেখা চিরকুটে নিজের পাওনা টাকা আদায় করে স্ত্রীকে দেওয়ার অনুরোধ করেন পুলক।
পুলক চ্যাটার্জি দীর্ঘদিন সমকালে সাংবাদিকতা করেছেন এবং বরিশাল ব্যুরো প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরে সমকাল কর্তৃপক্ষ ২০২৩ সালের দিকে তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়। এরপর তার প্রাপ্য বেতন ও অন্যান্য পাওনাও পরিশোধ করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘদিন পাওনা থেকে বঞ্চিত থাকার বিষয়টি মৃত্যুর আগে লেখা চিরকুটেও স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।
সমকালের মালিক এ কে আজাদ। পুলক চ্যাটার্জির চাকরি থেকে অব্যাহতি এবং তার বেতন-পাওনা পরিশোধ না করার ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির মালিক ও কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে মৃত্যুর আগে সমকালের কাছে পাওনা টাকা আদায় করে স্ত্রীকে দেওয়ার অনুরোধ করে যাওয়া চিরকুট।
পুলকের পরিবারের অভিযোগ, চাকরি থেকে বাদ দেওয়ার পর তার প্রাপ্য অর্থ পরিশোধ না করায় তিনি দীর্ঘদিন আর্থিক ও মানসিক সংকটের মধ্যে ছিলেন। শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর আগে লেখা চিরকুটে নিজের পাওনা অর্থের
কথা উল্লেখ করে গেছেন তিনি।
সমকালের বরিশাল কার্যালয়ের বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংবাদিক সুমন চৌধুরীকে উদ্দেশ করে পুলক চ্যাটার্জি চিরকুটে লিখেছেন: সুমন, বিদায়। তোমাকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলার জন্য দুঃখিত। একসঙ্গে প্রায় দেড় যুগ কাজ করেছি। কখনো কোনো কষ্ট দিয়ে থাকলে ক্ষমা করে দিও। যদি পারো সমকালে আমার পাওনা টাকা আদায় করে তোমার বউদির হাতে দিও।

স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা ও মেয়ে প্রকৃতিকে উদ্দেশ করে চিরকুটে পুলক লিখেছেন: “প্রিয়াঙ্কা/প্রকৃতি, আমাকে ক্ষমা করে দিও। পৃথিবীতে কারো জন্য কিছু থেমে থাকে না। প্রকৃতি তুমি পড়াশোনা ও গান শেখা চালিয়ে যেও।
প্রিয়াঙ্কা আমার অনুপস্থিতি তোমার জীবনে পূরণ হবার নয়। তারপরও কারও জন্য কিছু থেমে থাকে না। তোমরা দিপক ভাইর(পুলক চ্যাটার্জির ভাই) সাথে থেকো। দিপক তোমাদের আগলে রাখবে।
পুলক চ্যাটার্জি মৃত্যুর আগে পাঁচজনকে উদ্দেশ করে পাঁচটি চিরকুট লিখেছেন বলে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে জানা গেছে। এসব চিরকুটে স্ত্রী, সন্তান, ভাই ও সহকর্মীদের উদ্দেশে বিভিন্ন কথা লিখেছেন তিনি। এর মধ্যে সমকালের সহকর্মী সুমন চৌধুরীকে লেখা চিরকুটে প্রতিষ্ঠানের কাছে তার পাওনা টাকা আদায় করে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।
সমকালের বরিশাল অফিসের বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংবাদিক সুমন চৌধুরী জানান, পুলকের কাছে অফিসের একটি চাবি ছিল। তিনি মাঝেমধ্যে অফিসে এসে সময় কাটাতেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় অফিসে এসে ভেতর থেকে দরজা বন্ধ দেখতে পান সুমন। দরজার ফাঁক দিয়ে পুলকের মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ দরজা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করে।
পুলিশ জানিয়েছে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।