বিবৃতিতে গাজী নজরুল ইসলাম দাবি করেন, ঢাকার মগবাজারের একটি ব্যবসায়িক কার্যালয়ের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ থেকে ভিডিওটি নেওয়া হয়েছে। পরে পরিকল্পিতভাবে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে তাকে ব্ল্যাকমেইল এবং চরিত্রহননের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি জানান, ওই দিন তিনি তার প্রথম স্ত্রী মোসাম্মৎ মাকছুদা বেগম, দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম বেগম এবং ব্যক্তিগত গাড়িচালক ওবায়দুল্লাহকে সঙ্গে নিয়ে দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবা মো. মাসুম বিল্লাহর মগবাজারের ব্যবসায়িক কার্যালয়ে যান। সেখানে তারা প্রায় সোয়া এক ঘণ্টা অবস্থান করেন। এ সময় তার গাড়িচালক ওবায়দুল্লাহ কৌশলে ৬ থেকে ৭ জন অপরিচিত ব্যক্তিকে ওই কার্যালয়ের ভেতরে প্রবেশের সুযোগ করে দেন বলে দাবি করেন তিনি।
বিবৃতিতে বলা হয়, ওই ব্যক্তিরা কক্ষে ঢুকে এমপি ও তার পরিবারের সদস্যদের পরিচয় জানতে চান এবং তাদের সঙ্গে হেনস্তামূলক আচরণ করেন। পরে তাদের নিচে একটি চায়ের দোকানে নিয়ে গিয়ে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু টাকা দেওয়ার পর তারা সেখান থেকে বের হয়ে আসতে সক্ষম হন বলে জানান গাজী নজরুল ইসলাম।
তার দাবি, পরবর্তীতে তিনি জানতে পারেন, পুরো ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন তার গাড়িচালক ওবায়দুল্লাহ, যিনি তার দ্বিতীয় স্ত্রীর মামা। তিনি বলেন, মাসুম বিল্লাহর সঙ্গে ওবায়দুল্লাহর দুলাভাইয়ের পূর্বশত্রুতার জের ধরে ঘটনাটি পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়েছে।
গাজী নজরুল ইসলামের বিবৃতি অনুযায়ী, ঘটনার দিন রাত ১০টার দিকে ওবায়দুল্লাহ তার কাছে ৫ লাখ টাকা এবং মাসুম বিল্লাহর কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। ওই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করে সামাজিকভাবে হেয় করা এবং পরিবারের ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া হয়।
সংসদ সদস্যের অভিযোগ, চাঁদার টাকা না পেয়ে ওবায়দুল্লাহ কার্যালয়ের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে বিভ্রান্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ ভিডিও তৈরি করেন এবং তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। তিনি ঘটনাটিকে নিজের ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র এবং চরিত্রহননের অপচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেন।
গাজী নজরুল ইসলাম এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, পুরো বিষয়টি সাজানো। একই সঙ্গে তিনি কথিত ষড়যন্ত্রের মূলহোতা গাড়িচালক ওবায়দুল্লাহসহ জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।